চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের পুরোধা গফুর হালী আর নেই

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৬:৩২
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মরমি গানের কিংবদন্তী আবদুল গফুর হালী আর নেই। বুধবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীর সার্সন রোডে মাউন্ট হাসপাতালে সঙ্গীতের এই দিকপালের জীবনাবসান ঘটে।
 
আবদুল গফুর হালী ১৯২৮ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের রশিদাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। মৃত্যুকালে তারঁ বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। ৬০ বছর ধরে একটানা গান লিখে চলা হালী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত দুই মাস ধরে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য ভক্ত-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
 
গফুর হালীর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন চৌধুরী, পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী, আনোয়ারুল হক চৌধুরী, পরিচালক আলী হোসেন চৌধুরী সোহাগ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী রিংকু, আমির হোসেন সোহেল তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
 
এদিকে পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ টিপু, পটিয়ার পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ মরমি গানের কিংবদন্তী আব্দুল গফুর হালীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
 
আবদুল গফুর হালী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভান্ডারী গানের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী।  শেফালী ঘোষ, সন্দীপন, শিরিনসহ অনেক শিল্পীর উত্থান গফুর হালীর গান গেয়ে। হালীর গান নিয়ে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাগ্রন্থ।
 
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দক্ষিন চট্টগ্রামের আহ্বায়ক সাংবাদিক আহমদ উল্লাহ জানান, গফুর হালীর মরদেহ বুধবার নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির পিএইচপি হাইটসে রাখা হবে।
 
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে প্রথম নামাজের জানাজা, জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা এবং শুক্রবার নিজ গ্রাম পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের রশিদাবাদ গ্রামে বাদ জুমা তৃতীয় ও শেষ নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এমএইচ