সকল রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, নির্দলীয় ও দক্ষ নির্বাচন কমিশন চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুশাসন ও মানবাধিকার বিষয়ক সাব গ্রুপের বৈঠকে এই আহ্বান জানিয়েছে ইইউ।
বাংলাদেশে আইনের শাসন ও প্রয়োগ, জাতিসংঘে মানবাধিকার সহযোগিতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, মৃত্যুদণ্ড, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক শান্তি চুক্তি, নারী ও শিশু অধিকার, মৌলিক শ্রমাধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন ও সুষ্ঠু শ্রম ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান আঞ্চলিক ডিভিশনের প্রধান ভেরোনিকা কোডি ইইউ-এর নেতৃত্ব দেন। এ বৈঠকের আগে ইইউ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এনজিও’র সঙ্গে বৈঠক ও পরামর্শ করেছে। ইইউ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুশাসন ও মানবাধিকার বিষয়ে ইইউ-বাংলাদেশ সহযোগিতা চুক্তির আওতায় দুই পক্ষই মনে করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূলভিত্তি হল মানবাধিকার। বৈঠকে ইইউ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, মৃত্যুদণ্ড, মতপ্রকাশ ও সভা করার স্বাধীনতা, সুশীল সমাজের কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণমূলক করতে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, নির্দলীয় ও দক্ষ নির্বাচন কমিশন চায় ইইউ। প্রসঙ্গত, বর্তমান নির্বাচন (ইসি) কমিশন ২০১২ সালে গঠিত হয়। এর মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ইইউ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া ও নিরাপদে ফেরত পাঠানোর পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠানোর আহবান জানিয়েছে।
সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্টের আওতায় কারখানার কর্ম পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে আরো কাজ করার আহবান জানিয়েছে ইইউ। বৈঠকে শ্রমিক সংগঠন করার স্বাধীনতা ইস্যুতে ইইউ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,বাংলাদেশকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মৌলিক শ্রমাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়নকর্মী ও নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ ও হয়রানি বন্ধসহ এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইইউ। ইইউ-বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আগামী বছরের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে।
ইত্তেফাক/এসএসএ
