তরুণদের হাত ধরেই বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র বদলে যাবে বলে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর উপ-উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
তিনি বলেন জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশের যেমন সমস্যা রয়েছে তেমনি বিপুল সম্ভাবনাও রয়েছে। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠির সিংহভাগ অংশই তরুণ। এ তরুণরা উদ্যমী, পরিশ্রমী, সাহসী ও দেশ্রপ্রেমিক। দেশকে এ তরুণদের সুস্থ বিকাশের পথ সৃষ্টি করতে হবে। পৃথিবীর যে দেশগুলো তরূণদের সুস্থ বিকাশের পথ তৈরি করতে পেরেছে আজ তারা ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের চলচ্চিত্র মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রমে তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তবে একথা বলেন তিনি।
ইউএইচএইচ এর সভাপতি মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর পরিচালক মো: ফসিউল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ এর সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ আশরাফুল হক জর্জ, বাংলাশে ব্যাংকের যুগ্ন পরিচালক মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান, ডা. শুভেচ্ছা আহমদ, ডা. শাহনেয়াজ, ইয়ুথ অপরচুনিটিস এর প্রতিষ্ঠাতা ও কুয়িন্স ইয়ঙ্গ লিডার ২০১৬ বিজয়ী ওসামা বিন নুর ও অহনিশ ফিল্মের প্রধান কার্য নির্বাহী এইচ আল বান্না।
বিশেষ অথিতির বক্তৃতায় মো ফসিউল্লাহ বলেন যে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ট্রান্সফরমেশনাল স্টেজ পার করছে। আমাদের সোনার বাংলাদেশ নিন্ম মধ্য আয়ের দেশ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হবেই বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সম্পদের তুলনায় অধিক জনগোষ্ঠী হওয়ায় সরকারের একার পক্ষে দেশকে এগিয়ে নেয়া অনেকটা অসম্ভব। ক্ষুদা, দারিদ্রতা মুক্ত, উন্নত সুস্থ দেশ গড়ার সংগ্রামে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ আশরাফুল হক জর্জ বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের তরুণদের অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে।
অহর্নিশ ফিল্মের প্রধান কার্য নির্বাহী এইচ আল বান্না বলেন, আজকের বিজয় দিবস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে যে, বিজয় দিবস কেবল উদযাপনের বিষয় নয়। বরং বিজয়কে ধরে রাখতে হলে আমাদের দায়িত্ববান হতে হবে।
ইউএইচএইচ সভাপতি মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন যে, বিশ্বায়নের এই অস্থির সময়ে তরুণদের একটি অংশ নেশা ও মোহের ঘোরে আচ্ছন্ন। অন্য একটি ধর্মান্ধ অংশ উগ্র সাম্প্রদায়িক মতামতে উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে। ঠিক এমনি একটি যুগসন্ধিক্ষণে ইউএইচএইচ মহান মুক্তযুদ্ধের চেতনাকে লালনলকারী তরুণদের সাথে নিয়ে অসম্প্রদায়িক, ক্ষুদা, দারিদ্রতামুক্ত ও বহুত্ববাদী একটি সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে চায়। তিনি বলেন যে একটি দেশের উন্নতির অন্যতম পূর্ব শর্ত হল একটি সুস্থ জাতি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সীমিত সম্পদ দিয়ে ১৬ কেটি মানুষকে চিকিৎসা দেয়া প্রায় অসম্ভব।
তিনি বলেন, ইউএইচএইচ আগামী পাঁচ বছরে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ৫০ হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। তিনি ইউএইচএইচ এর ভিশন বাস্তবায়নে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
ইত্তেফাক/এমএইচ
