ইদানিং সকালে উঠে পত্রিকা হাতে নিতে ভয় লাগে! গত দু-বছর ধরে দেখছি। সকালে ফোন রিসিভ করাটাও প্রায় বন্ধ করেছি। মাত্র কিছুুদিন আগে আমার এক পুরোনো বন্ধু ফোন করলেন। হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে বন্ধুটি বললো, ‘যাক, বেঁচে আছিস।’ পরে একাধিক পত্রিকায় দেখি আমার মৃত্যুর খবর, মৃত্যু গুজব, আমি নাকি মরণাপন্ন ইত্যাদি শিরোনামের খবর। ইত্তেফাক কখনোই আমাকে হুটহাট করে মেরে ফেলেনি।
আর দৈনিক ইত্তেফাক তো আমার কাছে শুধু একটি পত্রিকায় নয়, আমার ফিল্ম ক্যারিয়ারে এটি অনেকটা দিকনির্দেশনার মতো। আমরা বিভিন্ন ছবি বা তারকা জীবনের রিভিউ পড়ে শিক্ষা নিতাম কি করা উচিত, কার ছবিতে সাইন করলে ক্যারিয়ার মজবুত করা যাবে। ইত্তেফাক আমার কাছে সেই প্রাণের জায়গা। প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া আমার-আমাদের কাছে বিরাট মাপের তারকা। তার গড়া এই দৈনিকের একটি সিঙ্গেল কলাম খবরের অনেক মূল্য, অনেক সম্মান রয়েছে।
ভালো লাগে যে, এখন পর্যন্ত কোনো বিষয়ে, কোনো ঘটনার সত্যাসত্য জানতে ইত্তেফাক কি লিখেছে সেটি পড়ে দেখি। সেটা শো-বিজ হোক বা রাজনীতির খবর। ইত্তেফাক কখনো তার খবর দিয়ে ঘটনাকে কোনোদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে না। যা ঘটে তাই লেখে।
তবে খুব মিস করি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেই সময়। নতুন ছবি রিলিজ হবে, ইত্তেফাকের ছবির বিজ্ঞাপনে আমার কত বড় ছবি ছাপা হলো তা দেখার এক দারুণ আগ্রহ আর কৌতুহল। আজো এই পত্রিকা আমার পরিবারের সঙ্গী। ইত্তেফাক-এর বর্ষপূর্তিতে আমার শুভেচ্ছা।
ইত্তেফাক/এমএআর
