সাংবাদিকতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না ইত্তেফাক

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:৫২

যে নিষ্ঠা ও প্রত্যয় নিয়ে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ গণমুখী সাংবাদিকতা করে এসেছে আগামীতেও তা অব্যাহত রাখবে। ইত্তেফাক কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেনি, ভবিষ্যতেও সাংবাদিকতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না— এই প্রত্যাশার কথা জানালেন ‘ইত্তেফাক’ পরিবারের প্রতিটি সদস্য। গতকাল শনিবার ঢাকাসহ সারাদেশে পেরিয়ে আসা প্রায় সাড়ে ছয় দশকের মতো আগামী দিনগুলিতেও সত্য, ন্যায় ও গণমুখী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে পালিত হলো দৈনিক ইত্তেফাক-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসায় ৬৪ বছরে পা দিলো ‘দৈনিক ইত্তেফাক’।

 
এ উপলক্ষে কাওরান বাজারের ইত্তেফাক অফিস ভরে উঠেছিল পত্রিকার শুভার্থী, বন্ধু, বিজ্ঞাপনদাতাদের পদচারণায়। সারাদিন ধরেই উত্সবমুখর পরিবেশে সবাই উদযাপন করলেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কেক কেটে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের ইত্তেফাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সঙ্গে এ কেক কাটায় অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ সাংবাদিক ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে ইত্তেফাকের প্রাণপুরুষ পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অতিথিদের নিয়ে কেক কাটেন। বিভিন্ন সংগঠন ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ইত্তেফাক ভবনে আসে। সারদিন ধরেই তাদের এই শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও দৈনিক ইত্তেফাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক-এর কার্যনির্বাহী পরিচালক মহিবুল আহসান শাওন ও পরিচালক রেজাউল আহসান ফাগুন। শুভেচ্ছা জানাতে আসেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, কবি হাসান হাফিজ, সিনিয়র সাংবাদিক এমএ আজিজ, কাদের গণি চৌধুরী, দেশের প্রথম এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহীম প্রমুখ।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দৈনিক ইত্তেফাক পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও মানিক মিয়া ছিলেন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুক্তিযুদ্ধের আগে সেই উত্তাল দিনগুলিতে ‘ইত্তেফাক’ পড়ে আমরা রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পেয়েছি। সেইসময় গ্রাম-গঞ্জের মানুষ ‘ইত্তেফাক’ পড়েই দেশের রাজনৈতিক গতিধারার খবর পেত। ‘ইত্তেফাক’ ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অস্ত্র। ইত্তেফাক সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেছে। কখনো গুজব ছড়ায়নি। আজকের দিনেও দৈনিক ইত্তেফাক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে চলেছে। ইত্তেফাক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। বর্তমানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধেও ইত্তেফাকের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। ইত্তেফাক যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক। ইত্তেফাকের জয় হোক।
 
দৈনিক ইত্তেফাকের এই আনন্দঘন মুহূর্তে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া  বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের সঙ্গে ইত্তেফাকের সাংবাদিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীকার আন্দোলনের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তার সাথে ইত্তেফাক ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কযুক্ত ছিল। দৈনিক ইত্তেফাক মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই অর্জনকে অবলম্বন করেই সামনে এগিয়ে যাবে।  ইত্তেফাক সবসময় দেশের ক্রান্তিকালে মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি যুগিয়েছে। আগামীতেও গণমানুষের মুখপত্র হিসাবেই ইত্তেফাক তার দায়িত্ব পালন করে যাবে।
 
শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে সরকারি চাপে ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘জয়বাংলা’, ‘জাতির পিতা’ এসব শব্দ ছাপানো যেতো না। আমরা ইত্তেফাকের রিপোর্টার কয়েকজন রিপোর্টের ভিতরে এসব শব্দ ঢুকিয়ে দিতাম। কোন না কোনভাবে তা ছাপা হতে লাগলো। এ কারণে আমরা বেশ চাপে পড়েছিলাম। তখন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আমাদের পক্ষ নিয়েছিলেন।
 
১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে পত্রিকাটি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসাই দৈনিক ইত্তেফাকের সুদীর্ঘ পথচলার একমাত্র শক্তি ও সাহস। গতকাল ৬৪ বছরে পদার্পন উপলক্ষে কাওরান বাজারে ইত্তেফাক অফিস ভরে উঠেছিল সংবাদপত্রটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ শুভানুধ্যায়ীদের পদচারনায়। সারাদিন ধরেই উত্সবমুখর পরিবেশে সবাই উদযাপন করলো এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। পরিকল্পনা ছিল ঘরোয়াভাবে ইত্তেফাকের সদস্যরা মিলে দিনটি উদযাপনের, কিন্তু এর মাঝেও অনেক শুভার্থী, রাজনীতিক, বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ইত্তেফাক ভবনে এসে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অতিথিদের স্বাগত জানান ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, বার্তা সম্পাদক মলয় পাঁড়ে, সিটি এডিটর আবুল খায়ের প্রমুখ।
 
শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটদলের সদস্য নুর মোহাম্মদ। শুভেচ্ছা জানান ‘বনিক বার্তা’র সম্পাদক হানিফ মাহমুদ, মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা লি., ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ূন কবির, প্রাণ-আরএফএল, ইসলামী ব্যাংক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা আবু তৈয়ব, বৈশাখী টিভির বিশেস প্রতিনিধি মিটুন মুস্তাকিম ও জিএম আব্দুর রউফ প্রমুখ। ছাড়াও শুভেচ্ছা জানান, দৈনিক ইত্তেফাক (এনএনপিপি) ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক মো. তাজাম্মেল হক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ইত্তেফাক ইউনিটের প্রধান আবুল খায়ের, উপ-ইউনিট প্রধান মো. আল মামুন, কর্মচারি ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আবু জাফর প্রমুখ।
 
প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, বাংলাদেশ সংবাদপত্র প্রেস শ্রমিক ফেডারেশন, সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাশিম, মোঃ আলী, সিলেটের সিরাজুল ইসলাম, বগুড়ার আব্দুর রফিক স্বপন, গফরগাঁওয়ের মোঃ সবুর হোসেন, কুমিল্লার চান্দিনার মজিবুল হক, টঙ্গীর কোহিনূর বেগম, ময়মনসিংহের মাজহারুল ইসলাম পান্না, পলাশ থেকে আজিজুল হক; সংবাদপত্র পরিবহন এসোসিয়েশন, সংবাদপত্র হর্কাস সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক মুসলিম মিয়া, আবুল কালাম; সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি নুরুল আমিন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, রুস্তম আলী, শহিদুল ইসলাম; বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিবহন সমিতির আব্দুস সালাম, মোঃ মিলন ভুইয়া ও মোঃ রুবেল হোসেন; বগুড়া জেলা এজেন্টদের পক্ষে আব্দুল মতিন প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এএন