ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। ভেতর ও বাইরে জমে আছে শেওলার স্তুপ। ছাদের ওপর জন্মেছে অসংখ্য গুল্মলতা। ফাটল ধরেছে বিভিন্ন স্থানে। উঠে গেছে মেঝের কার্পেটিং। বৃষ্টি হলেই ফাটল বেয়ে পানি চুঁইয়ে চলে আসে ভেতরে। সেই পানিতে নষ্ট হয় মূল্যবান কাগজপত্র। ভেতরের পরিবেশটাও স্যাঁতস্যাঁতে। দরজা-জানালাসহ অন্যান্য আসবাবপত্রের অবস্থাও ভালো নয়।
সরেজমিনে গিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ভবনে এমন চিত্র লক্ষ্য করা যায়। জরাজীর্ণ এ ভবনে দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। যে কোনো সময় ভবনটি মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালের দিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ভবনটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে দুই মেয়াদে ভবনটি সংস্কার করা হয়। এরপর ভবনটিতে আর সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি।
একজন কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী, দুইজন মেকানিক ও দুইজন মিস্ত্রী এই অধিদফতরে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে বসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আবার সেবা প্রার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই এই অধিদফতরে সেবা নিতে আসেন। প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আব্বাস আলী, আব্দুল হান্নানসহ সেবা নিতে আসা বেশ কয়েক ব্যক্তি জানান, ভয় করে তো কোনো লাভ নেই। কাজের স্বার্থে আমাদের এই অফিসে আসতে হয়।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন জানান, ভবনের ঝুঁকির কথা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজও ভবনটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অফিস করতে হয়।
ইত্তেফাক/এএন
