ঢাকায় রিপল ২৪ অভিযানে নিহত আফিফ কাদেরীর বাড়ি গাইবান্ধায়

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:৫৩

ঢাকার দক্ষিণখান আশকোনা এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় রিপল ২৪ অভিযানে নিহত আফিফ কাদেরী ওরফে শহীদ কাদেরীর বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের পশ্চিম বাটকামারি গ্রামে। তার বাবা তানভীর কাদেরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আজিমপুরে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত হয়।

 
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান শনিবার রাতে মুঠোফোনে বলেন, আফিফের বাবা তানভীর কাদেরী নিহত হবার পর জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা আবেদাতুন ফাতেমা ওরফে আশা এবং তার জমজ ভাই তাহরীন কাদেরী আবির পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু আফিফ পলাতক অবস্থায় জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত থাকে। ঢাকার দক্ষিণখান আশকোনা এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় রিপল ২৪ অভিযানে আফিফ কাদেরী ওরফে শহীদ কাদেরী নিহত হয়েছে বলে শুনছি।
 
এলাকাবাসি ও নিহত আফিফের পারিবারিক সুত্র জানায়, আফিফের দাদা আবদুল বাতেন কাদেরী জর্দ্দা ব্যবসায়ী। দাদি সুরাইয়া নার্গিস কাদেরী গৃহিনী। আফিফ কাদেরী ওরফে শহীদ কাদেরী ও তাহরীন কাদেরী আবির দুই জমজ ভাই। তারা ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
 
শনিবার বিকেলে জেলা শহর সংলগ্ন গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিম বাটকামারি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কনকরায় সড়কের পাশেই ইটের প্রাচীর ঘেরা আফিফ কাদেরীর দাদার বাড়ি। মজবুত করে তৈরি প্রধান ফটক। ভিতরে আঁধাপাঁকা টিনসেড ঘর। এ বাড়িতে আফিফের দাদা-দাদি থাকেন। আফিফ কাদেরীর দাদা আলহাজ্ব এস এম বাতেন কাদেরী বলেন, আফিফ কোথায় থাকতো আমরা জানতাম না। তবে আমার নাতি আফিফের মারা যাওয়ার কথা শুনেছি।
 
এলাকাবাসি জানায়, আফিফের বাবা নিহত তানভীর কাদেরী মৃত্যুর আগে মাঝে মাঝে এলাকায় এসে মানুষকে বলতেন, এদেশে সঠিকভাবে ইসলাম ধর্ম মানা হচ্ছে না। তার এসব কথা এলাকার মানুষ কর্ণপাত করতেন না।
 
প্রসঙ্গত. ঢাকার দক্ষিণখান আশকোনা এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় রিপল ২৪ অভিযানে নিহত আফিফ কাদেরী ওরফে শহীদ কাদেরীর পূর্ব পুরুষ ছিলেন পাকিস্থানের নাগরিক। তার বাবা তানভীর কাদেরীর দাদা মরহুম আলহাজ্ব মও. আব্দুল ওয়াহেদ ছিলেন পাকিস্থানের পেশোয়ার অঞ্চলের লোক। আনুমানিক ১৯১০ সালে বাংলাদেশে তাবলীগ করতে এসে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
পরবর্তীতে তার বাবা আলহাজ্ব এস এম বাতেন কাদেরী গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের পশ্চিম বাটিকামারি গ্রামের স্থায়ী হন।
ইত্তেফাক/এএন