দিনাজপুরে আলুবীজের তীব্র সংকটে উদ্বিগ্ন চাষি

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:৫৮

মানসম্মত বীজের অভাবে বিরলসহ কৃষি নির্ভর জেলা দিনাজপুরের আলু চাষিরা আলু আবাদ করতে গিয়ে পড়েছেন বিপাকে। বিএডিসি সরবরাহকৃত মানসম্মত বীজ না পেয়ে স্থানীয়ভাবে নিম্নমানের বীজ সংগ্রহ করে আলু আবাদ শুরু করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে তারা রয়েছেন শঙ্কায়। অনেকেই জমি প্রস্তুত করেও বীজ না পেয়ে আবাদ করতে পারছেন না।

 
দিনাজপুর জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, বিরলসহ দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায়   চলতি মৌসুমে ৪২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর এই আলু আবাদ করার জন্য বীজের প্রয়োজন মোট ৬৩ হাজার ৩৪৫ টন।  সরকারি বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি সরবরাহ করেছে নামেমাত্র আলুবীজ। বিএডিসি (বীজ) দিনাজপুরের উপ-পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার মোট এক হাজার ৬৭৫ টন আলুবীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এসব বীজের মধ্যে রয়েছে- গ্র্যানুলা, কার্ডিনাল ও স্টেরিক্স জাত। ডিলারদের মাধ্যমে এই বীজ কৃষকরা সংগ্রহ করেছেন বলে জানান তিনি। আলুবীজ সংকটের কথা স্বীকার করে ড. মাহবুবুর রহমান জানান, জনবল সংকট ও সরকারি জমির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী আলু বীজ উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
 
সরকারি মানসম্মত এসব বীজের প্রতি কেজি মূল্য ২২ টাকা ও ২৫ টাকা হলেও বাজারে তা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দাম দিয়েও পাচ্ছেন না আলুচাষিরা। বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে বাজার থেকে নিম্নমানের বীজ নিয়ে আলু বপন করছেন কৃষকরা। প্রতারিত হচ্ছেন আলু চাষিরা। বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, আলু আবাদের জন্য মানসম্মত বীজ তারা পাচ্ছেন না। অনেকেই বিএডিসি অফিসে দিনের পর দিন যোগাযোগ করেও বীজ সংগ্রহ করতে পারেননি। বাধ্য হয়েই স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে তারা আলু আবাদ করছেন। কেউ কেউ বীজ না পেয়ে আলু আবাদ বাদ দিয়ে অন্য ফসল আবাদের কথা ভাবছেন। বিরল উপজেলার ১২নং রাজারামপুর ইউনিয়নের হাসিলা গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী জানান, তিনি বেশ কয়েকদিন বিএডিসি অফিসে ধর্না দিয়েও আলুবীজ সংগ্রহ করতে পারেননি। গতবছর স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে প্রতারিত হয়েছেন। তাই এবার মানসম্মত বীজ না পেয়ে আলু আবাদ বাদ দিয়ে ভুট্টা বা অন্য রবিশস্য আবাদের কথা ভাবছেন তিনি। একই অবস্থা অন্যান্য আলু চাষির।
 
বিরল ১নং আজিমপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনজুরুল আলম তালুকদার বীজ সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, সরকারি মানসম্মত বীজ না পাওয়ায় তারা বাজার থেকে ভালো বীজ নিয়ে আলু চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। নতুবা ভুট্টাসহ অন্য ফসল আবাদের জন্য উত্সাহিত করছেন।

ইত্তেফাক/এএন