দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উদ্যাপিত হয়েছে। বড়দিনের উত্সবে শুধু খ্রিষ্টান সম্প্রদায় নয় হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের লোকজনের মাঝেও উত্সাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
দোহার-নবাবগঞ্জ ও সিরাজদিখান: ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সিরজাদিখানের আঠার গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উদ্যাপিত হয়েছে।
জানা গেছে, বড়দিন উপলক্ষে গত শনিবার বিকাল থেকে দোহারের ইকরাশী উপ-ধর্মপল্লী, নবাবগঞ্জের হাসনাবাদ গির্জা, গোল্লা গির্জা, তুইতাল গির্জা, সোনাবাজু উপ-ধর্মপল্লী, বক্সনগর উপ-ধর্মপল্লী, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের শুলপুর গির্জায় প্রার্থনা করতে আসা পুণ্যার্থীদের আগমনে সরগরম হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে প্রার্থনা পর্ব সম্পন্ন হয়। বড়দিনের উত্সব চলবে সোমবার পর্যন্ত। কীর্তনের (ক্যারল) মধ্য দিয়ে শেষ হবে বড় দিনের উত্সব। এর আগে নবরাজ খ্রিষ্টকে গ্রহণ করতে গির্জা ও উপধর্মপল্লীগুলোকে বড় দিনের ৯ দিন আগে থেকে নভেনা খ্রিষ্টযাগ বা পাপস্বীকার পর্ব চলে। গোল্লা গির্জায় প্রার্থনা করতে আসা গ্যামল গমেজ জানান, এ বছর আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বড়দিন উত্সব পালন করছি।
হবিগঞ্জ:হবিগঞ্জে ব্যাপক আয়োজনে দিনটি উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার সকালে শহরের পিটিআই রোডের খ্রিষ্টান মিশনে সকালে চার্চে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ড. জন সরকার। প্রার্থনা করান ফাদার মাইকেল সরকার। দুপুরে ড. জন সরকারের সভাপতিত্বে খ্রিষ্টান মিশনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। এর আগে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা এতিম শিশুরা একটি ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।
মাগুরা: মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ প্রার্থনায় অংশ নেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন গির্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার ৩৫টি গির্জা ও চার্চে উদ্যাপিত হয়েছে এ উত্সব। শনিবার রাতেই গির্জাগুলোতে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। যিশু খ্রিষ্টের আগমনের এ দিনকে ঘিরে চলে রাতের প্রার্থনা। গতকাল সকালে খ্রিষ্টযাগ (প্রার্থনা) ছাড়াও ছিল কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে বড় দিনের ক্রিসমাস ট্রি, প্রতীকী গোশালা। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন গির্জায় কাটা হয় কেক।
কালীগঞ্জ (গাজীপুর): দিবসটি উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী তুমলিয়া খ্রিষ্টান প্যারিস ধর্মপল্লীতে বড়দিনের কেক কাটা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তুমলিয়া ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত আলবিন গমেজ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তুমলিয়া প্যারিস কাউন্সিলের সহ-সভাপতি বাদল বেনজামিন রোজারিও। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী দাস মিলি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পরিমল চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি ভূঞাসহ উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): শ্রীমঙ্গলে উদ্যাপিত হয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র বড়দিন। গতকাল রবিবার স্থানীয় ক্যাথলিক মিশনে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীসহ অতিথিদের ছিল প্রচণ্ড ভিড়। এ উপলক্ষে আয়োজিত খ্রিষ্টজাগ অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল ধর্মপল্লীর ৭২টি চা বাগান, গ্রাম ও পুঞ্জিসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।
খ্রিষ্টজাগ অনুষ্ঠানে প্রধান পুরহিতের দায়িত্ব পালন করেন সিলেট ধর্ম প্রদেশের ধর্মপাল বিশপ বিজয় এন. ডি. ক্রুজ ও এমআই। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ধর্মপল্লীর পালক পুরহিত ফাদার সুব্রত বনিফাম টলেন্টিনু, সিএসসি ফাদার যোসেফ বাগনার গণসালভেস, লরেন্স টপ্য, ইউবার্ট গমেজ, ইগ্নেসিউস এসজে, অপু সলোমন, ডমিনিক সরকার প্রমুখ। এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ শ্রীমঙ্গল ক্যাথলিক চার্চে বড়দিনের কেক কাটেন এবং খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল):পুলিশী নজরদারী, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও ব্যাপক উত্সাহ ও উদ্দীপনার সাথে উদযাপিত হয়েছে ধর্মীয় উত্সব “শুভ বড়দিন”। এ উপলক্ষে উপজেলার ৪২টি গীর্জায় ৪৫৯টি খ্রিষ্ট পরিবারের সদস্যরা রবিবার সকালে যিশু খ্রিষ্টের ধরণীতে পুনঃ আগমনী বার্তায় বিশেষ প্রার্থনা শেষে অনুষ্ঠিত হয়। গির্জাগুলো সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্ট সমপ্রদায়ের বাড়িগুলোতে যিশু খ্রিষ্টের জন্মস্থল হিসেবে গোয়ালঘর নির্মাণ, রঙিন কাগজ ও বাতি দিয়ে বাড়ি সাজানো, ক্রিসমাস ট্রি সাজানো ও বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি, বরিশালের বাবুগঞ্জ, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী, মানিকগঞ্জের শিবালয়, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জসহ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকায় বড়দিনের উত্সব উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে।
ইত্তেফাক/এএন
