চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) কৃষি খাতে সাত হাজার ৫৭১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। এতে এ সময়ে কৃষি খাতে এক হাজার ৪০৫ কোটি টাকা বেশি বিতরণ হয়েছে। অর্থাত্ ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আমন মৌসুমে কৃষক থেকে ঋণের চাহিদা বেশি হওয়ায় সার্বিক কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। সামনে বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষিঋণ বিতরণ আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় আটটি ব্যাংকের জন্য নির্ধারিত নয় হাজার ২৯০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানার এসব ব্যাংক তিন হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। যা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৩৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত আট হাজার ২৬০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সাত হাজার ৮২৭ কোটি টাকা ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৪৩৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ সময়ে তিন হাজার ৮৫২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৪৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর বিদেশি ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩২২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অবশ্য চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংক আল-ফালাহ্, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এক টাকাও কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেনি।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় কৃষি খাতে মালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক, দুইটি বিশেষায়িত ও ৩৮টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ও নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ১৭ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৪৬ কোটি টাকা বেশি কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে। বিতরণকৃত এ ঋণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় আট এবং পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে দশ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ব্যাংকগুলো অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না। আর সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে সুদহার কমে আসায় ব্যাংকগুলো কৃষিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে এ খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জোর তত্পরতা এবং ব্যাংকগুলোর উদ্যোগের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। অগ্রাধিকার খাত হিসেবে এ খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আর ব্যাংকগুলোর দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ না হলে জরিমানারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কারণেই কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। যার মধ্যে সোনালী ব্যাংক ও ডিবিবিএল বেশি পিছিয়ে। এছাড়াও নতুন ব্যাংকগুলোও কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণে পিছিয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ ব্যাংক কৃষি খাতে মাত্র দেড় কোটি টাকা বিতরণ করেছে। যা ব্যাংকটির লক্ষ্যমাত্রার মাত্র এক দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময় মেঘনা ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ১৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ছয় দশমিক ১০, মধুমতি ব্যাংক এক দশমিক ১০, ইউনিয়ন ব্যাংক দশমিক ৮০, এনআরবি গ্লোবাল আট দশমিক ৯৪ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক ২৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করেছে।
এদিকে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে মিডল্যান্ড ব্যাংক। পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংকটির বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ কোটি টাকা। আর গেল পাঁচ মাসেই ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৫৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
ইত্তেফাক/এএন
