ভ্রাম্যমান সার্কাসে জীবন চলে কালামের

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৬:৫৩
ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে ১০টা। সোমবার হাটের দিন হওয়ায় অনেক ব্যস্ত মানুষের আনাগোনা। তবে পিরোজপুরের কাউখালীর সরকারী বালক বিদ্যালয় মাঠে তখন এক জটলা ভিড়।
 
আবুল কালাম আজাদের ভ্রাম্যমাণ মিনি সার্কাস প্রদর্শনী  উপভোগ করছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার কয়েক শ মানুষ। টানা এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সার্কাস প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে অনেকে খুশি হয়ে কালামের হাতে ৫-১০ টাকা করে তুলে দেন।
 
এ সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলে কালাম জানান, সাতক্ষিরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় তাঁর বাড়ি। ছোট বেলা থেকে তিনি দেশের নামকরা সার্কাস দলের সাথে থেকে সার্কাস প্রদর্শন করতেন। সংসারে অভাব অনটন থাকায় এ পেশায় দীর্ঘ দিন নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ করে দেশে সার্কাস প্রদশর্ণী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েন কালাম। সংসারের চাকা সচল রাখতে কাজের খোঁজে মাঠে নামেন কালাম। 
 
মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোথাও কোনো কাজ না পেয়ে একপর্যায়ে তিনি অনেকটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে অনেক কষ্টে নিজ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ মিনি সার্কাসের দলটি গড়ে তোলেন তিনি। কয়েক বছর ধরে একটি ইঞ্জিন চালিত বড় ভ্যানে করে এভাবেই সারা দেশ ঘুরে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, ফেরি-লঞ্চ ঘাটসহ হাট-বাজারে সার্কাস দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে তার দলটি।
 
কালাম বলেন, ‘সার্কাস প্রদর্শন করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই কোনো রকমে আমার সংসার চলছে। তবে খেলার মাধ্যমে মানুষের মনে আনন্দ দিয়ে আমি নিজেও অনেক আনন্দ পাই।’ 
 
ইত্তেফাক/এমএইচ