‘কিছু আইনজীবী করদাতাদের এনবিআর থেকে দূরে রাখেন’

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১:০৮
কিছু কর আইনজীবী করদাতাদের ভয় দেখান বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে করদাতাদের এনবিআর থেকে দূরে ঠেলে দেয়া হয়। 
 
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে কর আইনজীবীদের সঙ্গে রাজস্ব সংলাপ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। কর আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, করদাতাদের মামলায় না জড়িয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় সালিশী উপায়ে (এডিআর) রাজস্ব সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে উদ্বুদ্ধ করুন। কোন ব্যক্তি বা করদাতার দুর্নীতির তথ্য এনবিআরকে দিয়ে রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান তিনি। 
 
এনবিআর সদস্য ড. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ কর আইনজীবী সমিতি (বিটিএলএ) ও ঢাকা কর আইনজীবী সমিতির নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কর আইনজীবীরা আয়কর সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ ও মতামত তুলে ধরেন। 
 
এ সময় বিটিএলএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার টিআইএন (কর সনাক্তকরণ নম্বর) ব্যবস্থার জালিয়াতি রোধে ই-টিআইএন ব্যবস্থা চালু করলেও জালিয়াতি বন্ধ করা যাচ্ছে না। নতুন গাড়ি নিবন্ধন, ব্যাংকে হিসাব খোলা কিংবা ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়াও আরো কয়েকটি ক্ষেত্রে ই-টিআইএন জালিয়াতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা। ই-টিআইএনের জালিয়াতি রোধে কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বিটিএলএ’র মহাসচিব এম এ গফুর মজুমদার। সার্বজনীন স্বনির্ধারণী ব্যবস্থায় আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে করদাতার ফাইল অডিটের জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে, এ ধরণের ফাইল বাছাইকালে কর আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব রাখার প্রস্তাবও করা হয়। 
 
মোট মুনাফা নির্ধারণ বাস্তবমূখী করা, আয়কর আইনজীবীদের জন্য স্বতন্ত্র বার কাউন্সিল করা, নতুন রাজস্ব ভবনে কর আইনজীবীদের সমিতির জন্য প্রয়োজনীয় স্থান বরাদ্দ দেয়া, এনবিআরের চতূর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ইউনিফর্ম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয় বিটিএলএ। এ সময় বিটিএলএ’র পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে বলা হয়, আয়কর বিভাগের কর্মীরা নিজের অফিস সময়ে অফিসের কাজ ফেলে আয়কর রিটার্ন পূরণে বাইরে সময় দেয়। এতে রাজস্ব বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম নষ্ট হচ্ছে। 
 
এনবিআর চেয়ারম্যান এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে চতূর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের শিগগিরই ইউনিফর্ম ব্যবহার এবং তাদের নিজস্ব কর্মস্থলে থাকার বাধ্যবাধকতা দিয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই