বাবা মহব্বত বিশ্বাস ও মা নাজমা বেগমের ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। ফুটফুটে সন্তানের মুখ দেখে খুশি সবাই। দাদী আলেয়া বেগম অনেক আদর করে নাম রাখেন ‘ভিক্টোরিয়া’। এরপর ‘নায়াগ্রা জলপ্রপাত’র মতো প্রাণোচ্ছল আরেক সন্তানের নাম-‘নাইগেরিয়া।’ ঐতিহাসিক এসব নামের সঙ্গে মিল রেখে ছোট সন্তানের নাম রাখা হয়-‘এলিজাবেথ’। কিন্তু জন্মের পর থেকে তেমন কোনো ‘সুখের মুখ’ দেখেনি আদরের তিন সন্তান। ভূমিহীন বাবার সংসারে ‘অভাব-অনটন’ তাদের পিছু ছাড়েনি। তবুও পড়ালেখা চালিয়ে যায় তিন সন্তান। হঠাত্ করে ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত!’ গত বছর দুয়েক আগে মহব্বত বিশ্বাস ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এরপর শুরু হয়-বড় মেয়ে ভিক্টোরিয়ার (২৩) জীবনযুদ্ধ। ভূমিহীন বাবার সংসারে মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করে লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চালান ভিক্টোরিয়া আক্তার। পাশাপাশি প্রাইভেট পড়ানোসহ শিশু-কিশোরদের গান শেখান তিনি। প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউপির দিঘলিয়া গ্রামের বসতবাড়িতে প্যাকেট তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছে। এই কাজে ভিক্টোরিয়াকে সহযোগিতা করেন তার বাবা-মাসহ দুই বোন। খুলনা থেকে উপকরণ কেনার পর বাড়িতে প্যাকেট তৈরি করেন তারা। ভিক্টোরিয়ার বাবা লোহাগড়া, লক্ষ্মীপাশা, দিঘলিয়াসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে ভ্যানযোগে মিষ্টির প্যাকেট সরবরাহ করেন। প্রতিদিন প্রায় দু’শ’ মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করেন তারা। একটি মিষ্টির প্যাকেট তৈরিতে খরচ পাঁচ টাকা। সেক্ষেত্রে বিক্রি হয় ছয় টাকায়। এ সামান্য আয় থেকে তিন বোনের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চলছে।
ইত্তেফাক/এএন
