আমাদের শত্রুদের হুমকি দিনদিন বেড়েই চলছে। তাই সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের পদন্নোতি অনুষ্ঠানে বক্তৃতাদানকালে এ মন্তব্য করেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
দক্ষিণ চীন সাগরে বিমান বহনকারী চীনা যুদ্ধজাহাজ যখন নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে এমনই এক সময়ে এ মন্তব্য করলেন তিনি। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেং শিহ-কুয়ান বলেছেন, দিনে দিনে শত্রুদের হুমকি বেড়ে চলেছে। তাই আমাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বদা হুঁশিয়ার থাকতে হবে। আমাদের সৈন্যদের প্রশিক্ষণ আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে তারা শুধু যুদ্ধে বেঁচে থাকা নয়, বরং যুদ্ধে শত্রুদের খতম করতে পারে এবং মিশন সম্পন্ন করতে পারে।
দ্বীপ প্রদেশ হেইনানের অভিমুখে এ সাগরে মহড়া পরিচালনা করছে চীন। মহড়ায় সোভিয়েত তৈরি লিয়াওনিং বিমানবাহী জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এ জাহাজগুলো সম্পর্কে কিছুটা খোলাসা করেছে দেশটি। তারা বলছে, এটা আমাদের নিয়মিত মহড়ার অংশ। এদিকে তাইওয়ান জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলের পাশেই যুদ্ধজাহাজগুলো ঘোরাফেরা করছে। মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলীয় হেইনান দ্বীপের চীনা সামরিক ঘাঁটিতে জাহাজগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
নতুন করে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হওয়ার পর এ মহড়ার ঘটনা ঘটল। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বীপটির প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ হওয়ার পর বেইজিং বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরপরই চীনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, তাইওয়ান তাদের এবং এ ধরনের রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্ককে অবাঞ্ছিত বলে মন্তব্য করে।
এ মাসে পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর দিয়ে ব্যাপক এলাকায় চীন বিমান মহড়া চালায়। এতে জাপান ও তাইওয়ান নড়েচড়ে বসে। তবে চীন জানিয়েছে, এ মহড়া তাদের রুটিন কাজ মাত্র। দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ অংশই চীন নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
এছাড়া তার প্রতিবেশী দেশ ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামও এ এলাকায় তাদের দাবির কথা জানিয়েছে। এদিকে দেশটির এমন সশস্ত্র অনুশীলনে পেন্টাগন সরাসরি কিছু বলেনি তবে তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্র ও আকাশসীমার আইনগত ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেয়। পেন্টাগন মুখপাত্র গ্রে রস বলেন, আমরা এ অঞ্চলে চীনা নৌ বাহিনীর কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণে রাখছি। রয়টার্স
ইত্তেফাক/এসএসএ
