যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরানো নিয়ে চলছে চিঠি চালাচালি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৮:৪৫
পুরাতন হাইকোর্ট ভবন থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরানোর প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চলছে চিঠি চালাচালি। দুই দফায় চিঠি দিয়ে ট্রাইব্যুনাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু মন্ত্রণালয় ট্রাইব্যুনাল না সরিয়ে পাল্টা চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্টকে।
 
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় দফায় চিঠি দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের জনগণ চায় ঐতিহাসিক এ ভবনটির মর্যাদা সমুন্নত রেখে অত্র ভবনেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ অব্যাহত থাকুক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ ভবন হতে অন্যত্র সরানো হলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে এবং তা সর্বজনগ্রাহ্য হবে না। বরং সুপ্রিম কোর্ট দেশবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। 
 
গত ১৮ আগস্ট যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের দখল হস্তান্তর করতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলো সুপ্রিম কোর্ট। এতে বলা হয়েছিলো, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের চেম্বার ও এজলাশ এবং কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অফিস হিসেবে ব্যবহারের বিদ্যমান সংকট দূর করার লক্ষ্যে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনটি সুপ্রিম কোর্টের বুঝে পাওয়া একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু চিঠির বিষয়বস্তুর ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ৩০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দেয় আইন মন্ত্রণালয়। 
 
ওই চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের দখল সুপ্রিম কোর্টের অনুকূলে হস্তান্তর করা হলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা সর্বজনগ্রাহ্য হবে না। পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের দখল হস্তান্তর করার বিষয়টি পুনবির্বেচনা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করা হলো। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয়কে গত ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 
 
ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে অনেক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যথাযথ নিরাপদ পরিবেশেই সেসব মামলার বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। অতি স্পর্শকাতর মামলাসমূহ অধস্তন আদালতে বিচার নিষ্পত্তিতেও কোনরূপ সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়ার বিষয়ে সরকার যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে তা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর এরইমধ্যে সাত বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সরকার সদিচ্ছা পোষণ করলে এই ট্রাইব্যুনালের জন্য অন্যত্র সুবিধাজনক ও আরও নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করতে পারত। এই চিঠির জবাবে গতকাল আবারো সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। 
 
এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধসূমহ যেমন-যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এর ধারাবাহিকতায় অন্য কোথাও যৌক্তিক ও নিরাপদ স্থাপনা না পাওয়ায় সরকার উক্ত ভবনটিতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেছে। ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ শুরুর পর অনেক কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর বিচারকাজ সুসম্পন্ন হয়। সে কারণে ভবনটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তর করে ওই ভবনটি সুপ্রিম কোর্টের অনুকূলে দখল হস্তান্তর করা সমীচিন হবে না। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই