দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধীদের গ্রামীণ পুনর্বাসন কেন্দ্রটি (আরআরসি) চিতলমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ফকিরহাটে অবস্থিত। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এই পুনর্বাসন কেন্দ্রটির সকল কার্যক্রম।
প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্মিত জীর্ণ-শীর্ণ আবাসিক ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোনো প্রশিক্ষণার্থী। ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আরো একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসে প্রতিষ্ঠানটি দেখে-শুনে রেখে দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাজসেবা অধিদফতর নিয়ন্ত্রিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের গ্রামীণ পুনর্বাসনের দুটি কেন্দ্র রয়েছে বাংলাদেশে। একটি গাজীপুরের টঙ্গীতে, অপরটি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মুলঘর গ্রামে। ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে ফকিরহাটের মুলঘরে স্থাপন করা হয় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের গ্রামীণ পুনর্বাসন কেন্দ্রটি। আর ১৯৮৭ সালের জুন মাসে ১৬ জন পঙ্গু এবং ১৩ জন বধির শারীরিক প্রতিবন্ধীকে নিয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। দর্জি বিদ্যা, ওয়ার্কশপ এবং গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের মতো তিনটি কোর্সে প্রতিবছর সেখানে সর্বোচ্চ ৩০ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণের সুযোগ পেত। পুনর্বাসন কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে খাতা-কলমে রয়েছেন ১০ জন। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালন করছেন ছয়জন।
প্রশাসনিক ভবন আর প্রশিক্ষণ ভবনের ছাদ খসে পড়ছে। তার নিচে বসে ভয়ে খাতাপত্র নাড়াচাড়া করেন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন, নিবাসী তত্ত্বাবধায়ক সরদার জাফরুল ইসলাম, প্রশিক্ষক মো. আ. সত্তারসহ অন্যরা। তার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নিবাস ভবনের। ইতোমধ্যে ছাদের তলদেশের অধিকাংশ জায়গা খসে গেছে। এ অবস্থা বেশ কয়েক বছর ধরে। ঝুঁকিপূর্ণ এ অবস্থায় কোমলমতি শিশু-কিশোরদের জীবন ঝুঁকির কথা ভেবে কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ছাত্র ভর্তি ও প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেয়। ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণার্থীদের। সেই থেকে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সমাজসেবা অধিদফতরের এ প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
