ইংরেজি নববর্ষ সামনে রেখে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গেল সপ্তাহে বার্লিনে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলায় ১২ জন নিহত হওয়ার পর শুক্রবার বিভিন্ন শহরের বিপণিবিতান ও গণজমায়েত স্থলগুলোতে প্রতিরোধক বসানোর পাশাপাশি পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হয়। জার্মানির রাজধানী বার্লিনের ব্রানডেনবার্গ গেটের সামনে পারিজা পন্তাতজ স্কয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ১৭শ’ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিরোধক দিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রয়েছে।
বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র থমাস নয়েনডফ বলেন, “সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরো জানান, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা সাব-মেশিনগানও বহন করবেন, জার্মানির পুলিশের জন্য যা অস্বাভাবিক।
গেল সপ্তায় বার্লিনে তিউনিসিয়ার একজন নাগরিক একটি ক্রিসমাস মার্কেটে ট্রাক হামলা চালান। এ ঘটনার পর থেকে জার্মানির আইন প্রণেতারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানোর ডাক দেন।
ইতালির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মিলানে ওই হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সেখানকার প্রধান চত্ব্বরেও নিরাপত্তা তল্লাশি বসানো হয়েছে। রোম ও নেপলসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মেশিনগান নিয়ে পুলিশ ও সেনা প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্পেনের মাদ্রিদে অতিরিক্ত ১৬শ’ পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই নিয়ে দ্বিতীয় বছরের মতো শহরটির পুয়ের্তা দেল সল স্কয়ারে গণজমায়েত বন্ধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গেল বছর পশ্চিম জার্মানির কোলনের একটি স্টেশনের বাইরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে শত শত নারী যৌনপীড়ন ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। পুলিশ এই স্কয়ারটি পর্যবেক্ষণে নতুন নজরদারি ক্যামেরা বসিয়েছে। কোলনে ওই হামলা-পীড়নের ঘটনায় প্রধানত উত্তর আফ্রিকান ও আরবদের দায়ী করা হয়েছে। আর এরপরই দেশটিতে চ্যান্সেলর মার্কেলের প্রায় ৯ লাখ অভিবাসী-শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
বার্লিনে হামলার ঘটনাটি সেই সমালোচনার আগুন আরো উস্কে দিয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্টে ৬ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে বর্ষবরণ উপলক্ষে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।
গত বছরের মার্চে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আইএসের আত্মঘাতী জঙ্গিদের হামলায় ১৬ জন নিহত ও ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। শহরটির মেয়র নববর্ষ বরণে আতশবাজি পোড়ানো বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি তা বাতিল না করে অনুষ্ঠানটি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার ও ল্যুভর মিউজিয়ামসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সেনারা টহল দিচ্ছেন। পুরো ফ্রান্সজুড়ে ৯০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও ৭ হাজার সেনা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পুলিশ হাজারেরও বেশি পকেট অ্যালার্ম নারীদের সরবরাহ করেছে। জার্মানির কোলনে গেল বছর নারীদের উপর যে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে শহরটির নিরাপত্তা বাহিনী।
ইত্তেফাক/এএন।
