রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় তিনজনের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:২৯
 
রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় তিনজনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন- তুরাগের সাহাবুদ্দিন (৩৫), মোহাম্মদপুরে আশিফ (১৮) ও কোতয়ালিতে অজ্ঞাত যুবক। নিহতদের লাশের ময়না তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে সাহাবুদ্দিন নিরাপত্তাকর্মী ও আসিফ গ্যারেজকর্মী।  
 
তুরাগ থানার এসআই নূর আলম শিকদার বলেন, যে রুম থেকে সাহাবুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সে রুমে এক চা দোকানি প্রায়ই মালামাল রাখতেন। সকালে তিনি ওই রুমে মালামাল রাখতে গেলে বাইরে থেকে তালা দেয়া অবস্থায় ভিতরে সাহাবুদ্দিনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দিলে বাটুলিয়া খেয়াঘাট এলাকার মেটকো এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রকল্পের টিন শেডের ওই রুম থেকে সাহাবুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাহাবুদ্দিন ওই প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী ছিল। দুর্বৃত্তরা তাকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও জবাই করে হত্যা করেছে। তার পুরুষাঙ্গটিও কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুরের বালাকান্দি গ্রামে। বাবার নাম দানু মোল্লা। সাহাবুদ্দিন স্ত্রী কিবরিয়া বেগম ও দুই ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে বাটুলিয়া এলাকায় কাদিরের বাড়ি থাকত। নিহতের বাবা দানু মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, সাহাবুদ্দিন প্রায় এক বছর যাবত মেটকো এন্টারপ্রাইজে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছে। 
 
তিনি আরও বলেন, টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় বাবুল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ধার নেয় সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে। প্রায় ২০ দিন আগে বাবুল বাকি টাকার জন্য চাপ দেয়। পরে প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা করে দিতে চাইলে বাবুল সাহাবুদ্দিনকে সন্ত্রাসীদের নিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। দানু মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, বাবুলই পাওনা টাকার জন্য আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। 
 
নিহতের চাচাতো ভাই রেজাউল করিম জানান, সাহাবুদ্দিনের সাথে সেলিম নামে আরেক ব্যক্তি  নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করত। যেদিন যার ডিউটি থাকত সেদিন সে ডিউটি শেষে ওই রুমে ঘুমাতো। গত শনিবার সেলিম বাসায় ছিল। তিনি জানান, সেলিম ও আল আমিন নামে ওখানকার এক যুবক প্রায় সাহাবুদ্দিনের সাথে রাতে ঘুমাতো। আল আমিন একটু পাগল টাইপের ছিল। সকালে ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় এসে আল আমিনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে আল আমিন পাগল হলেও অনেক ভালো। বাবুলই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে দাবি তার।
 
তুরাগ থানার ওসি মাহবুব-এ-খোদা বলেন, নিহতের গলায় কাটাচিহ্ন, গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, বাম কানের উপরে ৪টি জখমের চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার রাত ৯টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে যে কোনো সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। 
 
এদিকে নিহত আসিফের খালাতো ভাই আরমান হোসেন জানান, আসিফ মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের এইচ ব্লকের ৫৪৪ নম্বর বাসায় থাকত। তার বাবার নাম আব্দুল কুদ্দুস। মোহাম্মদপুর সুলতান অটো গ্যারেজে কাজ করত সে। রুবেল ও শসসের নামে তার দুই বন্ধু শ্যামলী রিং রোডে আরকটি গ্যারেজে কাজ করে। তাদের গ্যারেজ থেকে কিছু দিন আগে গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি হয়। রুবেলের কারণে যন্ত্রাংশ হারিয়েছে বলে শমসের তাকে দোষারোপ করে। আবার রুবেল শমসেরকে দোষারোপ করতে থাকে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার রাতে আল বশির মসজিদের সামনে তারা আবার ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় আসিফ ও তার বন্ধু সজিব তাদের থামাতে যায়। এতে শমসের আসিফকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন আসিফকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়াদী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তারা লাশ বাসায় নিয়ে যায়। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল ভোরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
 
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, আসিফকে তার সহকর্মীরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ৬/৭ জন জড়িত থাকতে পারে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
 
অপরদিকে রবিবার দুপুরে পুরানো ঢাকার কোতয়ালী থানার কাজী জিয়া উদ্দিন রোডের একটি বাড়ি থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। কোতয়ালী থানার ওসি মো. আবুল হাসান বলেন, দুপুর দুইটার দিকে কাজী জিয়া উদ্দিন রোডের একটি বাড়ি থেকে ঘরের তালা ভেঙে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।
 
ইত্তেফাক/এমআই