মাটিরাঙ্গায় শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র তুলে দিলেন ইউএনও

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:৪০
দেশের হাজারো মানুষ যখন ভিড় জমিয়েছে সমুদ্র তীর, ড্যান্স ক্লাব, টিএসসি, শাহবাগ বা কোনো দামি রেস্টুরেন্টে ঠিক তখন মধ্যরাতে মাটিরাঙ্গার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার আন্তরিকতার ফলে বছরের শেষ দিনের মধ্যরাতে উষ্ণতার ছোঁয়া পেয়েছেন রমুজা-দেলোয়ারের মতো মাটিরাঙ্গা বাজারের ফুটপাতে পড়ে থাকা স্বজনহীন পঙ্গু মালেক।
 
শনিবার মাঝ পৌষের কনকনে শীতের মধ্যরাতে তাদের ভাঙা ঘরে হাজির হলেন পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমান।
 
নব্বইয়ের কোটা পেরোনো রমুজা খাতুন আর একশর কোটা ছুঁই ছুঁই মো. দেলোয়ার হোসেন। দুজনই চোখে দেখেন না অনেক দিন ধরে। কারো সাহায্য ছাড়া ঘর থেকে বের হতেও পারেন না।  মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ের ঢালুতে গিয়ে তাদের গায়ে জড়িয়ে দিলেন উষ্ণ কাপড়।
 
পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পৌষের কনকনে শীত উপেক্ষা করে তিনি মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন হাটবাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায় এবং হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের গায়ে জাড়িয়ে দিয়েছেন উষ্ণ কাপড়।
 
এদিন রাত ১০টার দিকে গুইমারা বাজার ও এর আশেপাশে হতদরিদ্রদের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করেন বিএম মশিউর রহমান। তিনি রাস্তার ধারে ফুটপাতে পড়ে থাকা শীতার্ত মানুষের গায়ে শীতের মোটা কাপড় দেন।
 
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেমং মারমা ও গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
 
এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত তিনি মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়া, পূর্ব কাজীপাড়া,  নবীনগর এবং ২নং ওয়ার্ডের নতুনপাড়া, তাইয়াটিলা এলাকায় বিভিন্ন দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের মাঝে শীতের উষ্ণ কাপড় বিতরণ করেন।
 
তিনি বলেন, পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণে এর চেয়ে ভালো উদ্যোগ আর কিছু হতে পারে না। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এসব শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো। বিত্তবান আর সচেতন মহল একটি ভালো উদ্যোগই সমাজের হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হতে পারে। তারাও ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।
 
ইত্তেফাক/এমএইচ