চিত্রপরিচালক তানিয়া আহমেদ যা বললেন...

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:৫২
তানিয়া আহমেদ। এদেশের মডেলিং ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পথিকৃত একজন। তার কোরিওগ্রাফিতে র্যাম্পের উঠোনে বিড়ালহন্টন (ক্যাটওয়াক) করা অগণিত তরুণ মডেল আজ প্রতিষ্ঠিত তারকা। ছোটপর্দার জনপ্রিয় এক মুখ তিনি। খুব অল্পসংখ্যক মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করলেও তা নিয়েই আলোচনা-প্রশংসায় মুগ্ধ করেছেন অগণিত দর্শকদের চোখ। এরপর উপস্থাপনা বা কোনো রিয়েলিটি শো-এর বিচারকার্য যে কাজটিই করেছেন তিনি সেখানেই আলাদা ব্যক্তিত্বের ছাপ বা সিগনেচার রেখেছেন তার কাজে। এবারে তার নতুন যে পরিচয়ে আসছেন সেই পরিচয়ের নাম চিত্রপরিচালক। ছবির নাম ‘ভালোবাসা এমনই হয়’। এসব  প্রসঙ্গ নিয়েই কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। 
 
চিত্রপরিচালক হিসেবে তানিয়া আহমেদের প্রথম ছবি। অনুভূতি কেমন—
 
এই যে নতুন নতুন প্রশ্ন শুনতে হয়। কবে রিলিজ পাচ্ছে। ক্যাম্পেইন প্ল্যান কি? সবটাই একটা নতুন পরিবেশ। তবে অন্যরকম ভালোলাগার একটা জায়গা। তাই অনুভূতির কথা সেভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবো না।
 
মীম বা সাজ্জাদকে নেওয়ার কারণ যদি নির্মাতার কাছে জানতে চাই—
 
প্রথমত, চরিত্রের সাথে যায় ওরা। আর সাজ্জাদ দেখতে সুন্দর, চরিত্রের সাথে মানানসই। ছবিটি যেহেতু চ্যানেল আইয়ের, ও এই চ্যানেলেরই একজন। তবে ওকে যখন আমি কাস্ট করেছি তখন ততোটা পরিচিতি ও পায়নি। অথচ ও আজ নিজ যোগ্যতায় অবস্থান গড়ে নিচ্ছে। তার মানে আমার চোখ শুরুতেই ভুল করেনি। ও আমার ছবিতেও ভালো করেছে। আর মীমের কথা কি বলবো। এক কথায় বলি, ও এ সময়ে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সব থেকে সুন্দরী মেয়ে।
 
ছবিটির বিশেষত্ব বা নির্মাতা হিসেবে আপনার ভাবনার জায়গাগুলো কি কি—
 
দেখুন, আমি একটি পরিপূর্ণ নির্মল বিনোদনের ছবি তৈরি করতে চেয়েছি। অনেকেই তাদের প্রথম ছবিটি একটু সিরিয়াস গল্প বা অনেককিছু বোঝানোর চেষ্টায় থাকেন। আমি তাদেরকে ছোট করছি না। কিন্তু আমার ভাবনা হলো প্রথম ছবিতেই আমাকে সব দেখিয়ে দিতে হবে কেন? আমি প্রথম ছবি হিসেবে সর্ব সাধারণের একটি ছবি বানানোর চেষ্টা করেছি, যে ছবিটি দেখে কিশোর-যুবক বা দেশের সিনিয়র সিটিজেন সবাই এক বসায় একটি চমত্কার বিনোদন নিয়ে রিফ্রেশ হতে পারবেন। আমার ছবির বিশেষত্ব এখানেই।
 
ছবির একটি গান রিলিজ করেছেন, যার রেসপন্স অনেক ভালো। এছাড়া এখনকার মেধাবী তরুণ নির্মাতারা হলের বাইরে এখন আলাদা বিকল্প প্রজেকশনেরও ব্যবস্থা করছেন। এমন কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না?
 
ছবিটি আগে দর্শকদের কাছে আসুক। তারপর তাদের রেসপন্স থেকেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রডিউসাররা। তবে বিভিন্ন হলে গিয়ে ক্যাম্পেইন করা বা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। কারণ ছবিটি নির্মল প্রেম বিনোদনের ছবি। কমার্শিয়াল ছবি বলতে আমরা প্রচলিত কথায় যা বলি যে নাচে গানে ভরপুর। আমার ছবিটিও তেমনি। তাই তরুণরাই এ ছবির ক্যাম্পেইনার হবেন।
 
ছবির একটি বিশেষত্ব হিসেবে মীম প্রথমবারের মতো আইটেম গানে পারফর্ম করলেন—
 
এটা আমার কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। দেখুন, আমাদের এই দর্শকরাই কিন্তু এইচবিও থেকে শুরু করে বিশ্বের সকল চ্যানেলই দেখছি। বাইরের অনেক হার্ডকোর কমার্শিয়াল আইটেম সং দেখে বাহ বা করছি ফেসবুকে। ওগুলো কিন্তু অশ্লীলও লাগছে না। আসলে পুরোটাই আমাদের প্রেজেন্টেশনের ওপরে। প্রথমে মীমও ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু আমি বলেছি, তোমাকে আমি যেভাবে প্রেজেন্ট করবো তা মোটেও মন্দ লাগবে না। এখন এ গানটি নিয়ে ও নিজেই ক্যাম্পেইন করে। ছবিটির অন্যতম আকর্ষণও মনে করি এটি। কারণ দর্শকদের মনোবৃত্ত আমাদেরকেই বদলাতে হবে।
 
প্রথম ছবি নির্মাণ করতে গিয়ে ইন্ডাস্ট্রির কোন দিকটা মনে হয়েছে খানিক বদলানো বা শুধরানো উচিত?
 
বেশিকিছু বলতে চাই না। তবে ছবির পোস্টার ডিজাইনে গতানুগতিক ধারাবদল করতে চেয়েছি এই ছবিতে। সেটির কিছু রিফ্লেকশনও পাবেন। কিন্তু ছবির পোস্টারগুলো সেন্সর করতে গিয়ে আমার অনেক কিছু ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। আমার মনে হয় এসব জায়গাগুলোতে আরো খানিকটা ডেভেলপ করা প্রয়োজন। আর এমনিতে এখন ভালো ছবির জোয়ার যাচ্ছে। দর্শকদের উত্সাহ ও অংশগ্রহণ এমন থাকলেই এমনিতেই বদলে যাবে আরো অনেককিছু। তাই আমি আশাবাদী।
 
ইত্তেফাক/এমএআর