সিমির আত্মহনন: আপিল রিভিশন হিসেবে গ্রহন করে নিষ্পত্তির নির্দেশ

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:১২
চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী সীমা বানু সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় আসামিদের সাজার বিরুদ্ধে সিমির পিতার করা আপিল রিভিশন আবেদন হিসেবে গ্রহন করে তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দায়রা আদালত বা উপযুক্ত আদালতে এ আবেদন নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
 
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের লুঘু দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন সিমির পিতা। আপিলে সাজার বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়।
 
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলিরুজ্জামান এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মো. মাসুদ রানা শুনানি করেন।
 
শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল সিমির সুইসাইড নোট আপিল বিভাগে পড়ে শোনান। নোটে সিমি লিখেছিলেন, ‘মহল্লার কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেপেলের জন্য এবং তাদের সাথে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এলাকার ছেলেদের মধ্যে দোয়েল, খলিল, মোফাজ্জল, রিপন এবং আরও কিছু ছেলে যাদের নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। একজন মেয়েকে রাস্তায় ফেলে রেপ করার চেয়েও নির্মম। তাই আমার পক্ষে অপমান সহ্য করে আর বেঁচে থাকা সম্ভব হলো না।’
 
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুই সাইড নোট লিখে গিয়ে নারীদের অপমানের প্রতিবাদ করে গেছেন সিমি। আর আইনগতভাবে তার পিতার আপিল চলতে আইনগত বাধা নেই। কারন আসামি পক্ষও সাজা বাতিলের জন্য আপিল করেছে। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সিমির ঘটনায় বাদি হয়ে প্রথম মামলা করেছিলো পুলিশ। যেহেতু পুলিশ বাদি সেহেতু রাষ্ট্রকে আপিল করতে হবে। সিমির পিতার আপিল করার সুযোগ নেই। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ উপরোক্ত আদেশ দেয়।
 
বখাটেদের অপমান সইতে না পেরে ২০০১ সালে ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি বাসায় বিষপানে আত্মহত্যা করেন নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী সিমি। আত্মহত্যার আগে সিমির লিখে যাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরে খিলগাঁও এলাকার দোয়েল, খলিল, মোফাজ্জল, রিপন, খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক বাশার ও তাঁদের সহযোগিতাকারী এনায়েত চৌধুরীর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। একটি মামলা করে পুলিশ। অপর মামলার বাদী সিমির পিতা আলী এমদাদ। ২০০২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলায় বিচার শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে সিমির পিতা ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে আপিল করেন। আপিল শুনানির জন্য ২০০৪ সালে গ্রহন করে ওই আদালত। এ অবস্থায় দায়রা আদালতের আদেশ বাতিল চেয়ে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করে। ২০০৬ সালের ৭ মে হাইকোর্ট ওই আবেদন খারিজ করে দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিপক্ষ। আদালত আসামিপক্ষের আবেদন পর্যবেক্ষন দিয়ে নিষ্পত্তি করে দেয়।
 

ইত্তেফাক/এএম।