আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয়ের আশা বিলীন হয়ে গেছে। তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে আগামী নির্বাচনে বিএনপির জেতা অস্বাভাবিক। তাই বিএনপি দিশেহারা দলে পরিণত হয়ে এখন দলটির নেতারা আবোল-তাবোল বকছে, উন্মাদের মতো হয়ে গেছে। বিবৃতি সর্বস্ব কর্মকাণ্ড করছে। বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা বলে, বিএনপি হাঁটু ভাঙা দল। আমি বলব, ফেলে আসা বছরের সবচেয়ে ব্যর্থ দল হচ্ছে বিএনপি। তাই তাদের সকল প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দরকার নেই।’
গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপরাজেয় বাংলার সামনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বিভিন্ন কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনকে অশুভ প্রবণতা আখ্যায়িত করে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি অভ্যন্তরীণ কোনো গ্যাঞ্জামের জন্য ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়, এর জন্য আমাদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা আছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা আছে, যে ব্যক্তিদের জন্য এই সমস্যা সৃষ্টি হবে, তাদের পুলিশে সোপর্দ করতে হবে, কিন্তু এই অজুহাতের জন্য একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাজ নয়।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি পরিষ্কার বলতে চাই, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট যেমন চলবে না, তেমনি অনির্দিষ্টকাল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা চলবে না। এটা যারা করে এটা তাদের ব্যর্থতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন যখন থাকবে, তখন যারা প্রার্থী হবে, তারা ভাববে আমি যদি খারাপ আচরণ করি তাহলে শিক্ষার্থীরা আমাকে ভোট দেবে না। কাজেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। আজ ২৫ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে সকল ছাত্র সংসদ। খোলা থাকলে অন্তত ৫০ জন নেতা তৈরি হতো। ছাত্রলীগকে পরগাছা মুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের অঙ্গীকার হবে, অনুপ্রবেশকারী, পরগাছামুক্ত ছাত্রলীগ। এই অনুপ্রবেশকারী, পরগাছারাই ছাত্রলীগের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান বাধা। এদের চিহ্নিত করতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে বিভিন্ন কায়দায় এই অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে সমস্যা সৃষ্টি করে। এই সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জড়িত গুটি কয়েক পরগাছা, বদনাম হয় গোটা পার্টির, বদনাম হয় শেখ হাসিনা সরকারের, বদনাম হয় গোটা ছাত্রলীগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হলে ছাত্রলীগকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা বক্তব্য রাখেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার শপথ
স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে উত্সবমুখর পরিবেশ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বর্ণিল নানা আয়োজন ও যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। জন্মদিনের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শান্তির প্রতীক ৬৯টি কবুতর আর ৬৯টি বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, মত্স্য ভবন, কাকরাইলের মোড় হয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বেই ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়।
গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল ৮টা ১ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে হবে রক্তদান কর্মসূচি। আর ৬ জানুয়ারি বিকালে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ ও পরে টিএসসিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে ছাত্রলীগ। এ ছাড়া ৮ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কলাভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএন
