বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবিতে মুগ্ধ দর্শনার্থী
জাতির জনক সম্পর্কে বই-পুস্তকে পড়েছে স্কুল পড়ুয়া আনিকা। তবে কখনো জাতির জনকের দুর্লভ ছবি দেখা হয়নি তার। বাবার সাথে বাণিজ্য মেলায় এসে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ প্যাভেলিয়ন ঘুরে এ সব দুর্লভ ছবি দেখে মুগ্ধ আনিকা।
গত কয়েক বছরের মতো এবারো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নামক একটি প্যাভিলিয়ন। দৃষ্টি নন্দন এ প্যাভেলিয়নের দেয়ালে টানানো হয়েছে বিভিন্ন আকারের শতাধিক ছবি। যার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জাতির জনকের জীবনী। অষ্টভুজ আকৃতির এ প্যাভেলিয়নে প্রবেশ করেই নানা বয়সী দর্শনার্থীর চোখ লেগে থাকে প্রতিটি দেয়ালে। বঙ্গবন্ধুর কিশোর জীবন থেকে শুরু করে বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও পারিবারিক দুর্লভ ছবি টানানো হয়েছে দেয়ালে। এ সব ছবির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘কারা প্রাচীরের অন্তরালে’ শিরোনামে ছাপা হওয়া ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের কিছু দুর্লভ ছবি ও সংবাদ। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কেনাকাটার পাশাপাশি কিছুটা ভিন্ন স্বাদ দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতেই এই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন নির্মাণ করা হয়েছে।
মেলার প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার পর ডান পাশের তিনটি প্যাভেলিয়নের পরই রয়েছে অষ্টভুজ আকৃতির দৃষ্টিনন্দন এ প্যাভেলিয়নটি। প্রবেশ গেটের পাশেই রাখা হয়েছে কাচের দেয়ালে ঘেরা বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি।
এ প্যাভেলিয়ন ঘুরলে চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আকারের ছবি। ছয় দফার সমর্থনে বক্তব্য দেওয়ার ছবি এবং গ্রেফতার হওয়ার ছবি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিশেষ মুহূর্তের ছবি, ১৯৭০ সালে রেসকোর্স ময়দানে বক্তৃতা দেওয়ার ছবি, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষণের ছবি, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পর বিমান বন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর যাওয়ার ছবি, ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ছবি। এ রকম অসংখ্য ছবি পুরো প্যাভেলিয়নের দেয়ালে রাখা হয়েছে।
এছাড়া প্যাভেলিয়নের দুপাশে লম্বা দুটি কাঠের ফ্রেমে কাচ দিয়ে রাখা আছে বেশ কিছু ছবি। তার একটিতে রয়েছে শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি, আরেকটিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর কিশোর বয়স থেকে শুরু করে বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি।
প্যাভেলিয়নের মধ্যে চতুর্ভুজ আকৃতির একটি কক্ষে বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে ধারণকৃত ভিডিও চিত্র। দেয়ালে টানানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা বাবার চিঠি, বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, বিভিন্ন বিদেশি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ।
কিশোর বঙ্গবন্ধুকে দেখা যাবে একটি ছবিতে। যেটি ১৯৪০ সালে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে শিল্ড কাপ জয়ের পর সহ-খেলোয়াড় ও ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে তোলা। রয়েছে ১৯৪৭ সালে ব্যারাকপুরে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলে তাকে কলকাতা-বিহার দাঙ্গার অ্যালবাম আকারে উপহার দেওয়া ছবি। পাশেই রয়েছে ১৯৪৯ সালের ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর পিতা শেখ লুত্ফর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা একটি বিশেষ মুহূর্তের ছবি। এ ছাড়া দুর্লভ ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে— ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত ছাত্র শেখ মুজিবের গ্রেফতার হওয়ার ছবি, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে একটি বিশেষ মুহূর্তের ছবি, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে জয়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবিতে বঙ্গবন্ধু ছাড়া আরো রয়েছেন খয়রাত হোসেন, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ক্যাপ্টেন মনসুর আলীসহ অন্যরা। একই রকম দুর্লভ ছবির মধ্যে রয়েছে ১৯৫৪ সালের ৫ মে শেখ মুজিবুর রহমানকে মন্ত্রী হিসেবে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের শপথ পড়ানোর ছবি, রাজনৈতিক জীবনে বিদেশ ভ্রমণের ছবি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিও দেখা যাবে প্যাভেলিয়নের দেয়ালে।
ইত্তেফাক/এএন
