সানি জুবায়ের। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। উদ্ভাবন করা তার নেশা। জাতীয় বিজ্ঞান মেলাসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে জিতেছেন ২০টির বেশি পুরস্কার। ৩৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রথম, নটর ডেম কলেজ বিজ্ঞান মেলায় প্রথম, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার বিজ্ঞান মেলায় প্রথম, বুয়েট বিজ্ঞান মেলায় প্রথম হয়েছে সানির প্রকল্প। আইডিয়াল বিজ্ঞান মেলায় ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
সমপ্রতি সরকারের আইসিটি ডিভিশন থেকে পেয়েছেন এক লাখ টাকার বৃত্তি। দুর্ঘটনারোধক যন্ত্র এবং সেনাবাহিনীর গুপ্ত কাজে সহায়ক গোয়েন্দা গাড়ি তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে তাকে বলা হয়েছে।
এই খুদে বিজ্ঞানী বলেন, সবার আগে দরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা। আমাদেরকে ল্যাব ব্যবহার করতে দিলে কাজের গতি আরো বেড়ে যাবে। সরকারিভাবে জাতীয় পর্যায়ে বেশি বেশি বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করতে হবে বলে জানান তিনি। এই খুদে বিজ্ঞানীর আইকন স্টিফেন হকিং। তাকে আদর্শ মেনেই কাজ করছেন সানি।
দুর্ঘটনারোধক যন্ত্র : এই প্রযুক্তি মূলত গাড়ি দুর্ঘটনা রোধের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর কাজ হলো যখন ২টি গাড়ি ডেঞ্জার জোনে আসবে তখন ২টি গাড়ি তাদের ড্রাইভারকে সংকেত দিবে। কিন্তু তারা যদি কোনো কারণে গাড়িকে নিরাপদে নিতে না পারে তখন ৩-৪ মিটার আশার সঙ্গে সঙ্গে তা থেমে যাবে। আর এই যন্ত্রটি খুব কম খরচে গাড়িতে লাগান যাবে। এই যন্ত্র দেশের সকল গাড়িতে লাগানর জন্য সরকারি সহযোগিতা দরকার।
গোয়েন্দা গাড়ি: স্পাই কার বা গোয়েন্দা গাড়ি দিয়ে সেনাবাহিনী শত্রুদের অবস্থানের গোপন ভিডিও এনে দিতে পারবে। কোনো রাডার এটি ক্যাচ করতে পারবে না। চাইলে শত্রুর ঘাঁটিতে টাইম বোমা সেট করে আসতে পারবে। আর এটি ইন্টারনেট দ্বারা চালিত হয়।
বিশেষ কম্পিউটার : সানি তৈরি করেছেন বিশেষ এক ধরনের কম্পিউটার। এই কম্পিউটার অন্য দশটি কম্পিউটার হতে আলাদা। এই কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার চালানো যাবে হাতের ইশারায়।
যদি কম্পিউটারের ৬ সেন্টিমিটারের মধ্যে হাত আনা হয় তবে কম্পিউটার নিজে থেকেই চলবে। আবার ডিভিডি রোমের সামনে হাত এনে প্যাটার্ন দিলে তা বেরিয়ে আসবে। আবার হাত বুঝিয়ে দিলে তা ভেতরে চলে যাবে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কম্পিউটারের সামনে একটি নির্ধারিত স্থানে রাখলে তার নিরাপত্তা দিবে কম্পিউটার। যদি কেউ সেটি নিয়ে যায় তাহলে মোবাইলে কল এবং ম্যাসেজ যাবে। এছাড়া কম্পিউটার দ্বারা ভূমিকম্পের সিগন্যাল পাওয়া যাবে। ফলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়া যাবে।
ওয়্যারলেস সিস্টেম: বাসার লাইট, ফ্যান, দরজা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কী-বোর্ডের মাধ্যমে। এটি পুরোপুরি ওয়্যারলেস সিস্টেম দিয়ে চলবে। বাসায় না থেকেও বাসার লাইট ফ্যান স্কাইপি ব্যবহার করে অন-অফ করা যাবে। এর দামও খুব কম হবে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ:যদি বাসায় আগুন লাগে তাহলে আপনা আপনি ফোন যাবে মোবাইলে। আর মোটর দ্বারা পানি পড়ে তা নিভে যাবে। আগুন বন্ধ হলে পানি পড়া নিজে নিজেই থামবে। এছাড়া পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে নিজ বাসার সকল তথ্য পাওয়া যাবে।
ইত্তেফাক/এএন
