গানের ফেরিওয়ালা- তানভীর শাহিনের নতুন অ্যালবামের নাম। নিজের গায়ক জীবনের সংক্ষিপ্ত নামটাও তার এই একই। কারণ দীর্ঘ প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তানভীর শাহিন গানের ফেরিই করে চলেছেন। সখীরে’ খ্যাত এই জনপ্রিয় শিল্পী পেশাগত কারনে দিকে অন্য অনেক কিছুই হতে পারতেন। হতে পারতেন একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু একজন শিল্পীই হতে চেয়েছেন জীবনের সবকটি দিন তারিখের কাজের হিসেবে। তাই আজ অবধি তার নেশা পেশা এই গানকে ঘিরেই। কৈশর থেকে গানের যাত্রা শুরু , সেই থেকে আজ অব্দি নিউইয়র্কে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রবাসী শিল্পী হিসেবে পরিচিতি তার।
IMG0
গান গেয়েছেন ২২ টিরও বেশি দেশের বিখ্যাত স্টেজে।
ঢাকার মিরপুরে বড় হওয়া তানভীর শাহিনের বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। ডানপিটে স্বভাবের ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিতি সেই শৈশবের। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাউন্ড সরবরাহ করাটা তার নিজের একান্ত নেশার মতো ছিল। একটু একটু করে পুরো শব্দের ঘরগুলো আয়ত্ব করে ফেললেন নিমিষেই!
তানভীরের কথায়, ‘আমার ভেতরে তখন থেকেই সঙ্গীতের নেশা। মূলত এলাকার বড় ভাইদের মিউজিক করা দেখেই এর প্রতি আগ্রহ জন্মে। দেশের একাধিক কিংবদন্তীর সাথে আমার তখন শ্রদ্ধা স্নেহের সম্পর্ক। আজম খান আমায় খুব আদর করতেন। শেখ ইশতিয়াক ভাইয়ের সাথেও দেখা করতাম। লাকী ভাই এখনও আমায় ছোট ভাইয়ের মতোই স্নেহে বুকে জড়িয়ে নেন। এমন অনেক স্মৃতির আঁঁকর গুছিয়েই তো মানুষের জীবন কেটে যাই। আমি তাই একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে জীবনের পথিক হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। আমার সেই সুরের প্রতি সকল নির্যাস নিয়েই, সেই সুরে আহরণ করতেই এবারে এই ‘গানের ফেরিওয়ালা’ অ্যালবামটি তৈরি করা।’
IMG1
আমি আমার মিউজিক নিয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই গানগুলো দেশে-বিদেশে ফেরি করে বেড়িয়েছি। প্রায় প্রত্যেক শিল্পীরই কিন্তু এমন একটি প্লে-লিস্ট। আমি আমার সেই জীবন সঞ্চিত গানগুলোই একটু একটু করে বেছে বেছে গানগুলো বেঁধেছি।
গানের ফেরিওয়ালা’ অ্যালবামটি তাই তানভীর শাহিনের খানিক অন্যরকম আবেগতাড়িত এক শিল্পকর্ম। পুরো অ্যালবামটির কম্পোজিশন করেছেন কলকাতার প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়। অ্যালবামের গানগুলো হলো নীল নীল শাড়ি পরে ( মূল শিল্পী : হ্যাপি আখন্দ ), নিলাঞ্জনা ( শেখ ইশতিয়াক ), ও চাঁদ সুন্দর ( আজম খান), সহেনা যাতনা ( রবীন্দ্রসঙ্গীত), যদি তুমি ( জুয়েল), এক ডালি ফুল ( জুয়েল), সেই যে চলে গেলে ( নিলয় দাস), দূরে চলে গেলে যদি (জাফর ইকবাল) এবং গানটির টাইটেল গান অর্থাত্ ‘গানের ফেরিওয়ালা’ গানটি মৌলিক। বাংলা গানের প্রখ্যাত গীতিকার মাহফুজুর রহমান। যার লেখনীতে বাংলা গান পেয়েছে তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে , কিংবা শুভ্র দেবের আমি হ্যামিলনের সেই বাঁশিওয়ালা, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না। এমন সব কালজয়ী গানের গীতিকার তানভীর শাহিনের এই অ্যালবামের টাইটেল গানটি লিখেছেন। গানটির সুরকারও তিনি। গানটি প্রসঙ্গে তানভীর শাহিন বলেন,‘ আমি খুব সৌভাগ্যবান যে তার মতো গীতিকারের গান আমি পেয়েছি। সত্যিই আমি ধন্য।’
তানভীর শাহিনের এই অ্যালবামটি প্রকাশ করছে লেজার ভিশন। নিজের এই নতুন একক প্রসঙ্গে শিল্পী তানভীর শাহিন বলেন,‘ গানগুলোর কম্পোজিশনে একধরনের কানের আরাম পাবেন। আমি ‘কানের আরাম’ শব্দটি একারণেই উল্লেখ করলাম, কারন এখন পুরনো গানগুলো রিমেক করা মানেই তার বিট চড়া করে , একটি হালকা গানেও নাচের দোলা দিতে হবে। আমি আমার এই গানগুলোতে তা রাখিনি। পুরোপুরি গানের মূল আদলটি রাখার চেষ্টা করেছি।’
IMG2
সখীরে’ খ্যাত তানভীর শাহিন তাই এখন খানিক নস্টালজিক সুরেই ঘুরছেন। সম্প্রতি অ্যালবামের ফটোশুট করলেন। পাশাপাশি ‘গানের ফেরিওয়ালা’ নিয়ে একটি লঞ্চিং অনুষ্ঠানের ও প্রস্তুতি চলছে।
তানভীর শাহিনের নতুন একক ‘গানের ফেরিওয়ালা’ প্রসঙ্গে লেজার ভিশনের চেয়ারম্যান একেএম আরিফুর রহমান বলেন, ‘তানভীর শাহিনের সাথে আমাদের সম্পর্কের সূত্রিতা দীর্ঘদিনের। তার সুপার ডুপার হিট গান ‘সখিরে আমরাই প্রকাশ করেছি। তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী। কারণ তানভীর শাহিন কখনও প্রচলিত অস্থিরতায় দুদিনেই হিট হবার জন্য দৌড়াননি। তাই তিনি একজন জাত শিল্পী। ’
তানভীর শাহিন প্রসঙ্গে শুধু তার প্রকাশকই নন। দেশ বরেণ্য শিল্পীরাও মন্তব্য করেছেন প্রশংসার সূত্রধরেই। বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ বলেন,‘ তানভীর শাহিন আমার ছেলের মতো। আমেরিকায় সে আমার প্রমোটার। এমনকি আমি ওকে নিজে আমার স্টেজে ডেকে একসাথে গাইতে অনুরোধ করি। এ থেকেই প্রমানিত হয় তানভীরের গান আমি কতটা পছন্দ করি।’
দেশের কিংবদন্তী সুরকার আলাউদ্দিন আলী বলেন,‘ তানভীর শাহিন এদেশের একজন প্রকৃত শিল্পী। অনেকেই গান গায়। কিন্তু সবাই শিল্পী হতে পারে না। তানভীর শাহিন একজন উত্কৃষ্ঠ মানের শিল্পী। সে তার প্রতিটা গানের ব্যাপারে যত্নশীল হয়েই কাজ করে।’
