এক দিনেই সড়কে প্রাণ গেল ২৪ জনের

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ০৩:১৩

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একই পরিবারের তিনজনসহ বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এ বিষয়ে ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া মাজার গেইট এলাকায় বুধবার রাতে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একই পরিবারের তিনজনসহ ৮ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও রয়েছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারগামী রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি চেয়ার কোচের সঙ্গে চট্টগ্রামমুখি একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আর বাসটি রাস্তার পাশে জমিতে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলে শিশুসহ আটজন নিহত হয়। আহত হয় আরো ২০ জন। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমান উল্লাহ সরকার জানান, নিহতদের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজনের পরিচয় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন কক্সবাজার জেলার পিএমখালীর ছনখোলা নয়াপাড়া এলাকার মো. জিসানের স্ত্রী তসলিমা আক্তার (২০), তার মেয়ে সাদিয়া (২), মা হাসিনা মমতাজ (৪৫), চকরিয়া উপজেলার উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার ভান্ডু মিয়ার পুত্র মাইক্রোবাস চালক মো: নুরুল হুদা (২৫), লোহাগাড়া উপজেলার সিকদার পাড়া এলাকার মো. সিরাজুল ইসলামের পুত্র আফজাল হোসেন সোহেল (৩০), মহেশখালী শাপলাপুর এলাকার জাবের আহমদের পুত্র আবদুর শুক্কুর (২৮) ও লোহাগাড়া মোস্তাফিজুর রহমান কলেজের শিক্ষার্থী বাঁশখালী সেখেরখীল এলাকার মো: সিদ্দিকের পুত্র আবু সায়েম (২০)।

মাদারীপুর: মাদারীপুর ফরিদপুর মহাসড়কের কলাবাড়ী ও রাজৈর নামক স্থানে বৃহস্পতিবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন নারীসহ ৮জন নিহত হয়েছে। এসময় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে কলাবাড়ী নামক স্থানে ফরিদপুরগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার খাদে পড়ে যায়। এ সময় ৩ নারীসহ ৭ জন প্রাণ হারায়। আহত হয় প্রায় ৪৫জন। নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার আমরাতলা গ্রামের হাসিয়া বেগম (৫০), খৈয়ারভাঙ্গা গ্রামের রাসু বেগম (৩৫) ও নয়ন হাওলাদার (৫০), ডাশার থানার আটিপাড়া গ্রামের সজিব (১৩), হাবিব হাওলাদার (৫০), আম্বিয়া বেগম (৬৫) এবং পান্থাপাড়া গ্রামের আব্বাস খান। আহতদের মধ্যে মারাত্মক আহত সোবাহান, মুজাম হাওলাদার, হাসিনাসহ ২৮ জনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শশাংক চন্দ্র ঘোষ ৭ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটিকে ধাওয়া করে রাজৈর উপজেলার রাবেয়া পেট্রোল পাম্পে এসে আটক করে পুলিশে ধরিয়ে দেয় এলাকার সাহসী যুবক নান্নু মিয়া । দুর্ঘটনার পর রাস্তার উভয় পাশে পাঁচ কি.মি. ব্যাপী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দ্রুত পুলিশের হস্তক্ষেপে দুই ঘন্টার পর পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।

অপরদিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম বাবনাতলা নামক স্থানে গতকাল ট্রাক ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নাঈম বেপারী (২৫) নামের একজন মারা যায়। নাঈম মাদারীপুর শহরের বাগেরপাড় এলাকার ইব্রাহিম বেপারীর ছেলে এবং মাদারীপুর বিকাশের এসআর ছিল। সকালে বিকাশের কাজের জন্য মাদারীপুর থেকে টেকেরহাট যাচ্ছিল।

যশোর: যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। নিহতরা হলেন— লেগুনা যাত্রী মণিরামপুর উপজেলার গাবুখালি গ্রামের সুভাষ বৈরাগীর ছেলে সুব্রত বৈরাগী (২৫), সদর উপজেলার কুয়াদা গ্রামের ঋষিকান্ত দাসের স্ত্রী শিউলী দাস (২৬) ও তার কন্যা সাধনা দাস এবং একই উপজেলার জঙ্গলবাধাল গ্রামের সুলতান মোল্লার ছেলে শামীম মোল্লা (৩০) এবং মোটর সাইকেল আরোহী শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সরদারের ছেলে আলেক সরদার (৫৫)।

জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে রূপদিয়া থেকে যশোরের দিকে আসার পথে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়ায় পৌঁছুলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক লেগুনাটিকে চাপা দেয়। এতে তিন লেগুনা যাত্রী মারা যায়। আহত হয় আরো ১০ জন। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকার বলেন, ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। তবে এর চালক পালিয়ে গেছে। অপরদিকে একই সময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ট্রাকের ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী আলেক সরদার নিহত হয়।

শেরপুর (বগুড়া): বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শ্যামলী পরিবহনের বাস চাপায় চাঁন মিয়া (৩৫) নামের এক ভটভটি চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার গন্ধমরিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছোনকা বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, স্থানীয় একটি অটোমিল থেকে চাল বোঝাই করে মহাসড়কের উক্ত স্থানে পারাপারের সময় বগুড়াগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভটভটিকে চাপা দেয়। এতে ভটভটি চালক চাঁন মিয়া গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী): বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের মীর্জাগঞ্জ উপজেলার রানীপুর এলাকায় গতকাল দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও পুলিশ সদস্যসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, সকাল ১০টার দিকে ডিস ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ খান ও কার্তিক নামের অপর এক আরোহীকে নিয়ে মোটর সাইকেলযোগে কুদবার চর গ্রাম থেকে সুবিদখালীতে যাচ্ছিল। এ সময় রানীপুর নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল লতিফ খান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন অপর মোটর সাইকেল চালক পুলিশ কনস্টেবল নেওয়াজ এবং আরোহী রাজু ও কার্তিক। আহতদের বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চরফ্যাশন (ভোলা): চরফ্যাশন টাউন স্কুল সংলগ্ন চৌরাস্তায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. জুয়েল নামের (২৫) একজন নিহত হয়েছে।

জুয়েল থানা মসজিদ সংলগ্ন ইউএস ফটোকপি দোকানের সত্বাধিকারী এবং পূর্ব মাদ্রাজ ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হাসেমের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ি যাওয়ার পথে জুয়েল থানা সড়কের টাউন স্কুল সংলগ্ন চৌরাস্তায় পৌছলে অন্য একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জুয়েলকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।