২০১৭ সালে জাতিসংঘের তহবিলে ৬০ লাখ ডলার কম দিবে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণ বন্ধে সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাশ হওয়া একটি প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
জাতিসংঘে ইসরাইলী রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, প্রতি বছর ইসরাইল জাতিসংঘের তহবিলে যে পরিমাণ অর্থের জোগান দিতো, এ বছর তার চেয়ে ৬০ লাখ ডলার কম দিবে। তিনি জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র কথা উল্লেখ করে এতে অনুদান দিতে অস্বীকৃতি জানান। প্রসঙ্গত, এই সংস্থাটি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও উচ্ছেদ নিয়ে বহুবার প্রশ্ন তুলেছে ও তদন্ত করেছে।
ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘জাতিসংঘে যারা আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে, তাদের অর্থের জোগান দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই। জাতিসংঘকে অবশ্যই এদের সমর্থন দেওয়া হাস্যকর বাস্তবতার অবসান ঘটাতে হবে। তাদের কাজই হলো উত্তেজনা তৈরি করা এবং ইসরাইলবিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়ানো।’ ইসরাইলের জাতিসংঘ মিশন আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদে সম্প্রতি পাশ হওয়া ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইসরাইলী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এই মিশন যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে আনা হলো তার প্রথম পদক্ষেপ। তবে ইসরাইলের তহবিল হ্রাসের ব্যাপারে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, ‘আমরা এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।’
গত ২৩ ডিসেম্বর ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাশ হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল যে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে, তার কোনও আইনগত ভিত্তি নেই।’ নিরাপত্তা পরিষদের ১৪টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে তা পাশ হয়। ভোটদান থেকে বিরত ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাবগুলোতে ভেটো দিত। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। রয়টার্স।
ইত্তেফাক/এসএসএ
