ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা গত শুক্রবার পাকা মার্কেটের ভালো অংশের বেশকিছু দোকান খুলে দেয়। গতকাল শনিবার আরো কিছু দোকান খুলে দেয়া হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পাঁচ দিন পরেও গতকাল গুলশানে ডিএনসিসি মার্কেটের ধসে পড়া অংশে ধোঁয়া দেখা গেছে। বেশি ধোঁয়া বের হলে সেখানে পানি ছিটাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাঁচা মার্কেটের দুই পাশ দিয়ে ধোয়ার কাজ শুরু করেছেন। ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজও চলছে।
পাকা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তালাল রেজভী বলেন, পাকা মার্কেটের ২০ শতাংশ দোকান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে অংশ ভালো আছে সেখানকার দোকান খুলে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ দোকানই খুলে দেয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছে পাকা মার্কেটটি ভালো আছে। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সেটা কেউ বলতে পারছেন না। এখন দোকান খোলার কারণে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে এর দায় ব্যবসায়ীদের নিতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা পুড়ে যাওয়া ও নষ্ট মালপত্র বাইরে এনে স্তুপ করে রাখছেন। ভেতরে ধোয়ামোছা চলছে। বেশ কিছু দোকানে পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে দোকান গোছানোতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে ধসে পড়া কাঁচা মার্কেট সমিতির নেতারা দোকানিদের একটি ফরম দিয়েছেন। তাতে দোকানের নাম, মালিকের নাম, কত টাকার সামগ্রী ছিল এসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়। ধসে পড়া ভবনের পেছনের অংশে কয়েকজন দোকানি বাইরে থেকে লাঠি, রড বাঁকা করে মালপত্র বের করার চেষ্টা করছেন। কথা প্রসঙ্গে এসব দোকানি বলেন, যে ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েছেই। এখন ধ্বংসস্তুপের জঞ্জাল থেকে যদি কিছু উদ্ধার করা যায়, সেটাই লাভ।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত ২টার দিকে ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগে। আগুন লাগার ১৫ মিনিটের মধ্যে কাঁচা মার্কেটটি ধসে পড়ে। পরে আগুন পাকা মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ।
ডিএনসিসি কাঁচা ও পাকা মার্কেটে ছয় শতাধিক দোকান ছিল। আগুনে প্রায় আড়াইশ’ দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং বাকিগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ইত্তেফাক/এএন
