রাজধানীতে অধিকাংশ বাড়ি নির্মাণে রাজউকের বিধি মানা হচ্ছে না

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:৩৪

রাজধানীতে অধিকাংশ বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেই রাজউকের বিধিমালা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে বাড়ি নির্মাণের সময় আবশ্যিক উন্মুক্ত স্থান ছাড়ছেন না শতকরা ৮০ ভাগ বাড়ির মালিক।

 
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিকার চেয়ে এ পর্যন্ত সহস্রাধিক অভিযোগ দায়ের করেছে রাজউকে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগেরই সুরাহা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছে।
 
ভুক্তভোগীরা জানান, রাজউক সিংহভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ নিয়েই ক্ষান্ত থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নোটিশ দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজউকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নোটিসের ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অংকের উেকাচ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দেয়। সর্বোপরি এ নিয়ে রাজউকে জমজমাট উেকাচ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পাওয়াগেছে।
 
রাজধানীর মুগদাপাড়া, চামেলীবাগ, শান্তিনগর ও ওয়ারী এলাকায় একাধিক বাড়ি নিয়ম বহির্ভুতভাবে নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
জানা গেছে, রাজধানীর ১১৭ নম্বর উত্তর মুগদা পাড়ায় পাঁচ কাঠা জমির উপর একটি বহুতল বাড়ি নির্মাণ করছেন আবুল কাশেম ও আবুল হোসেন। রাজউকের বিধি অনুযায়ী ৫ কাঠার জমিতে বাড়ি করতে হলে শতকরা ৪০ ভাগ জমি চারপাশ থেকে ছাড়তে হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আবশ্যিক উন্মুক্ত স্থান ছাড়া হয়নি। নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশে পাটের চট দিয়ে ঘিরে রাখার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। আশপাশের বাড়ির মালিকরা তাদের জানালা খুলতে পারছে না। উপরন্তু পাশের বাড়ির মালিক অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মরিয়মের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে নির্মাণকারীরা। নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে ইতিমধ্যে স্থানীয় কমিশনার, মুগদা থানা ও রাজউকে অভিযোগ দায়ের করেছেন জান্নাতুল মরিয়ম। অভিযোগ দায়েরের পর ভবন নির্মাণকারীরা তাকে ও তার পরিবারকে অভিযোগ তুলে নিতে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে।
 
অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মরিয়ম বলেন, বাড়ি নির্মাণকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। আইনের কোনো তোয়াক্কা করছে না। তারা বাড়ি বানাতে গিয়ে জমি ছাড়া তো দূরে থাক, উল্টো তার বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। ছাদের ঢালাইয়ের রড তার ভবনের সঙ্গে এসে মিশেছে। বার বার প্রতিবাদ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এক দিনের জন্যও নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়নি। উপরন্তু রাতদিন নির্মাণ কাজ চলছে। অভিযোগ তুলে নিতে প্রভাবশালীরা তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
 
অপরদিকে নির্মাণাধীন বাড়ির মালিক মো. আবুল হোসেন বলেন, স্থানীয় সালিশে ছাদের অতিরিক্ত অংশ ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মরিয়মের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। শিগগিরই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হবে।
 
এ ব্যাপারে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ঘটনার ব্যাপারে অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মরিয়ম থানায় একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই তৌহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
স্থানীয় কাউন্সিলর বিএম সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ করা হয়েছে। সালিশে ভবন নির্মাণকারী আবুল হোসেন ও আবুল কাশেমদের রাজউকের নিয়ম মেনে বাড়ি নির্মাণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ছাদ ঢালাই ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়েছে।
 
রাজউকের পরিচালক মো. শাহ আলম চৌধুরী বলেন, সিংহভাগ বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেই রাজউকের বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে না। এই মর্মে একাধিক অভিযোগ আসছে রাজউকে। মুগদাপাড়ার ঘটনায়ও ঘটেছে তাই।  ৫ কাঠার উপরে জমিতে বাড়ি করতে শতকরা ৪০ ভাগ জমি ছাড়তে হয়। সর্বনিম্ন ৫ফুট জমি ছাড়া বাধ্যতামূলক। বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘন করার প্রমাণ পাওয়া গেলে বাড়ির প্ল্যান বাতিলসহ জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএন