মশার কামড়ে অসুস্থ হয়ে কারো মৃত্যু হলে ওই ব্যক্তিকে তার বিমার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছে ভারতের ভোক্তা সুরক্ষা কমিশন। কমিশনের মতে, 'মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়ে মৃত্যুবরণ নেহাতই একটা দুর্ঘটনা।'
ভারতের জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের বিচারপতি ভি কে জৈন এক মামলার রায়ে মন্তব্য করেছেন, 'কোনো দুর্ঘটনা আগে থেকে জানা যায় না। তা ঘটে আচমকাই। মশার কামড়ও তেমনি, আগে থেকে আন্দাজ করা যায় না।'
ওই বিচারপতি আরও বলেন, 'বিমা কোম্পানিগুলো সাপের কামড়ে মৃত্যু, কুকুরের কামড় বা ফ্রস্ট বাইটে মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মানে। তো মশার কামড়ে কারো মৃত্যু হলে তা দুর্ঘটনা নয় কেন?'
২০১২ সালে মোজাম্বিকে থাকাকালীন ম্যালেরিয়ায় মারা যান ভারতের কৈখালির বাসিন্দা মৌসুমি ভট্টাচার্যের স্বামী দেবাশিস ভট্টাচার্য। স্বামী দেবাশিসের নামে দেশটির ন্যাশানাল ইস্যুরেন্স কোম্পানিতে বিমা করা ছিল। মৌসুমি সেই টাকা বিমা কোম্পানির কাছে দাবি করেন। সেখানে প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি যান ক্রেতা সুরক্ষা ফোরামে। এখানে তাকে বিমার টাকা দিতে বলা হয়। এর পরই বিমা কোম্পানি যায় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে। সেখানেও ন্যাশানাল ইস্যুরেন্সের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। শেষমেশ কোম্পানি জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হয়। এখানেই রায় দেওয়া হয়, মশার কামড়ে মৃত্যুও এক ধরনের দুর্ঘটনা। সেই রায়েই এখন বিমার টাকা পেতে চলেছেন মৌসুমি ভট্টাচার্য।
ইত্তেফাক/এএম
