ফিলিস্তিন সমর্থক ব্রিটিশ এমপিদের মানহানির ষড়যন্ত্র ফাঁস

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:৪০
ফিলিস্তিন সমর্থক হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মন্ত্রী স্যার অ্যালান ডানকানসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যর মানহানির ষড়যন্ত্রর কথা বলার সময় গোপন ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পড়েছেন দেশটির ইসরাইল দূতাবাসের এক কর্মকর্তা। আল জাজিরার সাংবাদিকদের স্টিং অপারেশনে শাই মাসোত নামের ওই ইসরাইলি কর্মকর্তার কথোপকথন ধরা পড়ে।
 
গত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আল জাজিরার একটি ডকুমেন্টারির জন্য ইসরাইল সমর্থক কর্মী, ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও ইসরাইল দূতাবাস কর্মকর্তাদের উপর স্টিং অপারেশন চালানো হয়। সাড়ে চার ঘণ্টার এই ডকুমেন্টারি জানুয়ারির ১৫ তারিখ থেকে আল জাজিরায় প্রচারিত হওয়া শুরু হবে। 
 
মাসোত যুক্তরাজ্যে ইসরাইলি দূতাবাসে জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই ভিডিও ফাঁসের পরে যুক্তরাজ্যে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত মার্ক রেগেভ ক্ষমা চেয়েছেন। তার মুখপাত্র বলেছেন, ইসরাইল রাষ্ট্রদূত শাই মাসোতের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। মাসোত মারিয়া স্ত্রিজ্জলো নামের যুক্তরাজ্যের একজন সরকারি কর্মকর্তা ও ওই সময় তাদের সঙ্গে ছদ্মবেশে থাকা আল জাজিরার সাংবাদিক ‘রবিন’ এর সঙ্গে কথা বলছিলেন।
 
স্ত্রিজ্জলোর সঙ্গে কথোপকথনে ফিলিস্তিনপন্থি ব্রিটিশ এমপিদের কিভাবে সুনামহানি করতে হবে সেই পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে বলেন, যদি ভালো করে খোঁজ নাও, তাহলে দেখবে তাদেরও গোপন করার মতো অনেক কিছু আছে। হয়তো কোনো স্ক্যান্ডাল! স্ত্রিজ্জলো ব্রিটিশ এমপি রবার্ট হালফনের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। হালফনের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য নিজের কৃতিত্ব দাবি করার পরে মাসোত তাকে বলেন, তুমি কী এর বিপরীতটা করতে পারবে?
 
মাসোত বলেন, আমি কী তোমাকে কিছু এমপির নাম বলতে পারি যাদের সম্মানহানি করতে হবে? ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ডানকান)। স্ত্রিজ্জলো জবাবে বলেন, তুমি এখনো তার বিরুদ্ধে কাজ করতে চাও? আমার ধারণা আমরা তাকে কিছুটা দুর্বল করে ফেলতে পেরেছি। জবাবে মাসোত নেতিবাচক উত্তর দেন। 
 
IMG0
 
ডানকান ছাড়াও ফিলিস্তিন সমর্থক বলে পরিচিত যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ক্রিসপিন ব্লান্ট এর নামও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে ইসরাইলপন্থি বলার পাশাপাশি তাকে ‘নির্বোধ’ বলে অভিহিত করেন।
 
মাসোতকে ইসরাইলি দূতাবাস একজন জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করলেও তার ভিজিটিং কার্ড অনুযায়ী তিনি ‘সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার’। তার লিংকডইন পেজ অনুযায়ী ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ইসরাইল দূতাবাসে কাজ করছেন।
 
সেখানে তার কাজের ধরণের বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি যুক্তরাজ্যের এমপি, মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসরাইল দূতাবাসের সংযোগ রক্ষার প্রধান। ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত ইসরাইল সেনাবাহিনীতে মেজর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় ফিলিস্তিনের গাজা পর্যন্ত গানবোটে করে ইসরাইলি প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
IMG1
 
উল্লেখ্য, এই কথোপকথন ফাঁস যুক্তরাজ্য ও ইসরাইল উভয়ের জন্য বিব্রতকর। পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধ করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব পাস হয়েছে। কিন্তু এরপরেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাজ্যের জোরালো সমর্থনের কথা বলেছেন। 
 
কূটনৈতিক শিষ্টাচারের এমন গুরুতর লঙ্ঘনের পরেও বিষয়টিকে গুরুত্বই দিচ্ছে না যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ক্ষমা চেয়েছেন এবং এটা পরিষ্কার যে এই মন্তব্যগুলো ইসরাইল বা তাদের দূতাবাসের দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করে না। ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী সম্পর্ক বিদ্যমান এবং আমরা এই বিষয়টি এখানেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে মনে করছি। গার্ডিয়ান।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ