ঊর্মি হত্যা : কানের দুল না পেয়ে চাচিকে খুন করেন মাসুদ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ১৮:৫০
পুরান ঢাকায় কানের দুল দিতে অস্বীকার করায় চাচি উর্মিকে খুন করেন মাসুদ রানা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ শনিবার রাতে হত্যাকারী মাসুদকে বংশাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে  উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ঊর্মির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ট্যাব। 
 
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। গত বছর ৫ নভেম্বর  বংশাল থানা এলাকার সুরিটোলার নিজ ফ্ল্যাটে হত্যার শিকার হন ঊর্মি। এ ঘটনায়  জড়িত থাকার সন্দেহে বংশাল থানা পুলিশ উর্মির স্বামী আজগর আলীকে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 
 
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, ঊর্মি সম্পর্কে মাসুদ রানার চাচি। হত্যার দিন স্ত্রীকে নিয়ে মাসুদের একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল। তাই চাচির কাছে স্ত্রীর জন্য কানের দুল আনতে যান মাসুদ। ঊর্মি কানের দুল দিতে অস্বীকার করে জানান, স্বামীর অনুমতি ছাড়া তিনি কানের দুল দিতে পারবেন না। তখন চাচির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয় মাসুদের। একপর্যায়ে মাসুদ তার চাচিকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। ঊর্মি  তখন প্রাণরক্ষার্থে বাথরুমের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ অবস্থায় মাসুদ বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ছুরি দিয়ে আরো কোপাতে থাকে। পরে ঊর্মির রক্তমাখা জামা খুলে নিয়ে চাচার পোশাক পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান মাসুদ। বাড়ি থেকে পালিয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নেয় মাসুদ। পালানোর সময় মাসুদ চাচির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ট্যাব সঙ্গে করে নিয়ে যান।
 
যুগ্ম কমিশনার বলেন, এরপর একদিন জুয়ায় হেরে টাকার বদলে ঊর্মির মুঠোফোন দিয়ে দেন মাসুদ। ওই মুঠোফোনের সূত্র ধরেই গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। 
 
যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, রক্তাক্ত ঊর্মির মরদেহ নিয়ে যখন হাসপাতালে ছুটছিলেন তখন সবার সন্দেহ ছিল স্বামী আজগর আলীকে কেন্দ্র করে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর হত্যার দায়ে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করা হয় স্বামী আজগরকে। কিন্তু ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হিমশিম খায় বংশাল থানা পুলিশ। তবে ছায়া ডিবি দক্ষিণ বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। 
 
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাশরুকুর রহমান খালিদ বলেন, শনিবার বিকালে গ্রেফতারকৃত আসামি মাসুদ রানা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই