শর্ত না মানলে মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:৩০

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম যে সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সরকারি নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে পারে নাই সেগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, চিকিত্সা শিক্ষার মান নিয়ে সরকার কোনো আপস করবে না। যে কলেজে মানসম্মত শিক্ষক নাই, লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নাই, শিক্ষার্থীর সংখ্যার অনুপাতে হাসপাতালের শয্যা নাই- সেই কলেজ চালানোর কোনো দরকার নাই। সরকার এ বছর চারটি কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যে সব কলেজ দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে পারবে না আগামী শিক্ষাবর্ষে তাদের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।

 
গতকাল রবিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের কে-৭৪ ব্যাচের নতুন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টশেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।  নতুন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভালো চিকিত্সক হতে গেলে পড়ালেখাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজন নাই। পড়াশোনার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটালে সুচিকিত্সক তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘আজ যারা মেডিকেল শিক্ষায় প্রবেশ করছো, ছয় বছর পর শিক্ষা শেষ করে গ্রামে যেয়ে নিজ পিতৃভূমির মানুষের সেবা করার মানসিকতা গড়ে তোল। গ্রামের মানুষের চিকিত্সা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করবে।’
 
ইন্টার্ন চিকিত্সকদের রোগী ফেলে রেখে ধর্মঘটে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিত্সকদের প্রথম কাজ রোগীর চিকিত্সা করা। কোনো ভুল বুঝাবুঝির কারণে রোগীকে ফেলে রেখে অযথা ধর্মঘট করা কোনো মানবিক গুণাবলীর মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেন, কোনো আন্দোলন ছাড়াই সরকার ইন্টার্ন চিকিত্সকদের ভাতা বাড়িয়েছে। তাই চিকিত্সা অবহেলা করে অযথা আন্দোলনে যাওয়ার কোনো অর্থ হয় না।
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে কোন ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষার্থী ধূমপান করতে পারবে না। তিনি বলেন, ফার্মসিস্ট ছাড়া কেউ ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে মডেল ফার্মেসি ঘোষণা করা হয়েছে।
 
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাইল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিএমডিসি’র সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান, বিএমএ’র মহাসচিব অধ্যাপক এহতেশামুল হক, স্বাচিপ মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ বক্তৃতা করেন।
 
ঢাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনে আগ্রহী জাপান: নারী ও শিশুদের জন্য ঢাকায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপান। গতকাল জাপানের লিংক স্টাফ কোম্পানি লিমিটেডের এক প্রতিনিধিদল ঢাকায় সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে সাক্ষাত্ করতে এসে এই আগ্রহের কথা জানান। জাপান সরকার ও জাপানী একটি হাসপাতালের সহায়তায় ঢাকায় এই হাসপাতাল স্থাপন করা হবে বলে জানান প্রতিনিধিদল। লিংক স্টাফ-এর প্রেসিডেন্ট ইয়াসুয়াকি সুগিতা চার সদস্য বিশিষ্ট এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
 
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে বেসরকারি সংস্থা নিয়োগ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবকয়টি প্রস্তাবনা পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে শিগগিরই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইত্তেফাক/এএন