গত বছর কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে : সেফটি এন্ড রাইটসের প্রতিবেদন

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১৯:৫৫
গত বছরব্যাপী কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩৮৩ জন। এর আগের বছর ২০১৫ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৩৭৩ জন। সে হিসাবে সদ্য সমাপ্ত বছরে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। বেসরকারি সংস্থা সেফটি এন্ড রাইটসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অবশ্য কেবল পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ পরিসংখ্যা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের বাইরে কোন দুর্ঘটনায় নিহতের পরিসংখ্যানও এতে নেই। দুর্ঘটনায় অনেক মৃত্যু গণমাধ্যমের চোখ এড়িয়ে যায়। ওই তথ্য এতে আসেনি। 
 
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে কল-কারখানাসহ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিহতের সংখ্যা সর্বাধিক ১৩৬ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৬ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে নির্মাণ খাত। এতে নিহতের সংখ্যা ১২৫ বা মোট নিহতের ৩৩ শতাংশ। এছাড়া হোটেল, ওয়ার্কসপ ও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানসহ সেবা খাতে দুর্ঘটনায় নিহত ৬৬ জন, পরিবহন খাতে ৪৯ জন এবং কৃষি শ্রমিক ৬ জন।
 
কেবল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে ৯৩ শ্রমিক। এছাড়া, আগুনে পুড়ে ৬৩ জন; ছাদ, মাঁচা বা ওপর থেকে পড়ে ৪৯ জন, শক্ত বা ভারি বস্তুর আঘাতে বা নিচে চাপা পড়ে ৪৮ জন, সড়ক দুর্ঘটনাও ৪৮ জন, বিস্ফোারণে ২৮ জন, সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত  হয়ে ২৪ জন এবং ছাদ বা দেয়াল ধসে ১১ শ্রমিক মারা গেছে। এছাড়া অন্যান্য কারণে আরো ১৯ শ্রমিক নিহত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বয়লার, বিস্ফোরণ, পানিতে ডুবে যাওয়া, বজ্রপাত প্রভৃতি। 
 
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সেফটি এন্ড রাইটসের পক্ষ থেকে বেশকিছু সুপারিশ দেয়া হয়। এর মধ্যে খাতভিত্তিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া শ্রম আইন অনুসরণ করে প্রতিটি কারখানায় বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটি গঠন করা, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন করা, আইন বাস্তবায়নে রাজউক ও কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ (ডিআইএফই) নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন, বিনামূল্যে কর্মরত শ্রমিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান করা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই