ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একসঙ্গে ৬টি গরু বিষপানে মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ধরখার নিমপল্লী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন গরুর মালিক ইউসুফ মিয়া।
জানা গেছে, উপজেলার ধরখার নিমপল্লী গ্রামের ইউসুফ মিয়া একজন বর্গাচাষী। বাড়ির ভিটে ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই তার। সম্পদ ছিল ৩টি গাভী ও ৩টি ষাঁড়। সেগুলো হারিয়ে জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ফেলেছেন। তার ৬টি গরুকে ভাতের মাড়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে কে বা কারা মেরে ফেলেছে।
এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ইউসুফ মিয়া। গাভীগুলো কিনেছিলেন ঋণ নিয়ে। একদিকে সংসারের বোঝা, অন্যদিকে ব্যাংকের কিস্তি। সবমিশিয়ে এখন অর্ধপাগল হয়ে গেছেন হাস্যোজ্জ্বল ইউসুফ মিয়া।
ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘একই গ্রামের আমার এক আত্মীয় মারা গেছে। লাশ দেখতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আমরা সবাই যায়। গরুগুলো বাড়িতে গোয়ালঘরে বাঁধা ছিল। বাড়িতে শুধু আমার বৃদ্ধ বাবা ছিল। সন্ধ্যায় এসে দেখি ৩টি গরু মারা গেছে। আর ৩টি গরু ছটফট করছে। সঙ্গে সঙ্গে গরুর ডাক্তার নিয়ে আসি। ওই ডাক্তার জানান, ভাতের মাড়ের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এ কারণে একসঙ্গে গরুগুলো মারা গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২ মেয়ে, ২ ছেলে ও বৃদ্ধ বাবা মা নিয়ে ৮ জনের সংসার। আমার একমাত্র উপার্জন গরু পালন। গরুর দুধ বিক্রি করে সংসার চালায়। প্রায় ৮ মাস আগে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা ঋণ তুলে দুটি ষাড় কিনি। এ গরুগুলো আগামী কোরবানী ঈদে বিক্রি করার কথা ছিল। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’
আরও পড়ুনঃ লোভের আগুনে পুড়ে আর প্রাণহানি নয়: তথ্যমন্ত্রী
আখাউড়ার ধরখার ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ মো. মাসুদুল আলম এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘গরুগুলো দেখে এসেছি। গরুর মালিককে বলে এসেছি কাউকে সন্দেহ হলে আমাদের জানানোর জন্য।’
ইত্তেফাক/নূহু
