ভারতীয় তিন চ্যানেলের সম্প্রচার: রুল শুনানিতে পক্ষভুক্ত ২ ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:২৫
বাংলাদেশে ভারতীয় তিন টিভি (স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলা) চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের প্রশ্নে জারিকৃত রুলের শুনানিতে পক্ষভুক্ত হয়েছে এদেশে ওই চ্যানেল পরিবেশনকারী দুটি সংস্থা। ডিজি যাদু ব্রডব্যান্ড এবং ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা আদালতে ওকালতনামা দাখিল করে মামলার শুনানিতে পক্ষভুক্ত হন।
 
বুধবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চে তৃতীয় দিনের মতো এ রুলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
 
স্টার জলসা ও স্টার প্লাস চ্যানেল পারিবেশনকারী সংস্থা ডিজি যাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেডের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু শুনানিতে বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির অনুমতি নিয়েই এই বিদেশি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হচ্ছে। এসব চ্যানেল সম্প্রচারের বিপরীতে সরকার এ পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। তিনি বলেন, তিনটি চ্যানেল সম্প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এর আগে দায়েরকৃত একটি রিট আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছিলো হাইকোর্ট। আবেদনকারী আবার একই বিষয়ে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য এনেছেন। আমি মনে করি এটা জনস্বার্থ মামলা নয়, এখানে ব্যক্তিস্বার্থ জড়িত। আবেদনকারী কোন পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রিট মামলা করেছেন। এই আবেদন চলতে পারে না।
 
রিটকারীর আইনজীবী এখলাছউদ্দিন ভূইয়া বলেন, সরকার চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় একজন আইনজীবী জনস্বার্থে মামলা করেছেন। এখানে কোন ব্যক্তিস্বার্থ নেই। তিনি বলেন, ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনা আইন-২০০৬ এর ১৯ ধারার কয়েকটি উপধারা লংঘন করেই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে এই তিনটি চ্যানেল। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয় এমন অনুষ্ঠানও সম্প্রচার করা হচ্ছে। আইন অনুযাযী এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না। যদি করে তাহলে চ্যানেলের বিরুদ্ধে সাময়িক বা স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
 
রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনা আইন-২০০৬ এর অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে চ্যানেলগুলো ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে এদেশে সম্প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। চ্যানেলগুলো যেসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে তার গ্রাহকরা এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ সরকার বা বিটিভির কাছে দাখিল করেনি। যেহেতু কোন ধরনের অভিযোগ আনেনি সেহেতু চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখে তরুনীদের মধ্যে আত্নহত্যার প্রবণতার বিষয়টি রিটকারী আদালতে তুলে ধরেছে তা একেবারেই অযৌক্তিক। নানা কারনে যে কেউ হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ১৯ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত। এ সময় আদালতে জি বাংলা পরিবেশনকারী সংস্থা ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে অ্যাডভোকেট শামসুল হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত এই দুটি ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থা বাংলাদেশে ৫০টি বিদেশী চ্যানেল পরিবেশন করে থাকে।
 

এর মধ্যে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে স্টার জলসায় প্রচারিত ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ সিরিয়ালের পাখি চরিত্রের নামে পোশাক কিনতে না পেরে বাংলাদেশে অনেকে আত্মহত্যা করে। এ নিয়ে পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহিন আরা লাইলী ওই তিন টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের রুলে বাংলাদেশে ভারতীয় তিন টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

 

ইত্তেফাক/এএম।