তরুণরাই দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:২২

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দেশের উন্নয়নে তরুণদেরকে মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৩০ বছরের নীচে। তারাই দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তিনি তরুণদের গবেষণা কাজে যুক্ত করার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাইরের কেউ নয়, বাংলাদেশের সমস্যার কথা তারাই ভালো জানে। তাদের গবেষণালব্ধ ফল দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘কনফারেন্স ফর রিসার্চ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। গবেষণা নামক একটি সংগঠন এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী।

 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জন্মলগ্ন থেকে পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে আসছে। এর সাথে খাপ খাইয়ে চলছি আমরা। তবে বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবীব্যাপী আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এমন কোনো প্রকল্প নেই যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত, অনুন্নত এবং স্বল্পোন্নত সব দেশই কমবেশি দায়ী। এজন্য কোনো একক দেশকে দোষারোপ করে লাভ নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজস্ব ফান্ড থেকে বেশ কিছু কাজ করেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ কাজ হয়তো কম। তবে সঠিক পরিকল্পনা এবং গবেষণা করা গেলে অর্থ বড় সমস্যা নয়। দেশীয় গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সমস্যা দেশীয় গবেষকরা ভালো বুঝবেন। তরুণ গবেষকরা এ কাজে এগিয়ে আসতে পারেন।
 
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্ব ঝুঁকির মধ্যে আছে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, বাংলাদেশের সামনে অন্যান্য চ্যালেঞ্জও আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় এ সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণার ওপর জোর দিয়ে বলেন, উন্নতমানের গবেষণা দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা যাবে।
 
বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজ এর চেয়ারম্যান ড. আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন একে অপরের সাথে জড়িত। যে কোনো পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের ধারায় এখন সব দেশে চলছে। বাংলাদেশকে পিছিয়ে পড়লে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন খাতে অনেক গবেষণার সুযোগ আছে। শুধু দেশীয় নয়, এ খাতে বিদেশেও চাকরির সুযোগ আছে।
 
আইসিসিসিএডির পরিচালক ড. সলিমুল হক তরুণ শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়ে উল্লেখ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন খাতে কিভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে তার বিশদ বিবরণও দেন তিনি।
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি এম ওমর রহমান এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাশেদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
 
সচেতনতা এসেছে, এখন কাজ করার সময়
 
এদিকে গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত অপর অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জাতিসংঘের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা এসেছে। এখন সবার কাজ করার সময়। তিনি বলেন, অনেকে জাতিসংঘকে খাটো করে কথা বলেন। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে, এটি কোনো ছোট ক্লাব নয়। জাতিসংঘের কারণে অনেক বড় বড় কাজ হয়েছে। রিও কনভেনশন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বহুপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে তৈরি করা একটি প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মরক্কো জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে অনেকে হতাশ হয়ে পড়লেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে অনেকের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার সাথে কে আছে কে নেই সেটি বড় বিষয় নয়, এ নিয়ে কাজ করতে হবে, এটিই বড় বিষয়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, সরকার এমন কোনো কাজ করে না যেখানে পরিবেশ প্রাধান্য পায় না।  আশা করি, সরকারের এ উদ্যোগ বিফলে যাবে না।
 
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কইয়োকো ইউকোসুকা বলেন, বাংলাদেশ অনেক বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা একটি। এ খাতে বাংলাদেশ বেশ কাজ করেছে। যার কারণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পের প্রবৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দুয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই।
 
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবাট বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে ব্যক্তিখাতকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুকে বাংলাদেশ সরকার খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার সব খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করছে।
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছ উল আলম মন্ডল, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুল করিম, অতিরিক্তি সচিব নুুরুল কাদির, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো: জিয়াউল হক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজ এর চেয়ারম্যান ড. আতিক রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়াতে ইউএনডিপি এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের সহায়তা দেবে। সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

ইত্তেফাক/এএন