হবিগঞ্জ জেলার সকল পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশণ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এক রায়ে এ নির্দেশনা দেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
২০১৫ সালের ২২ আগস্ট ‘পাহাড় কাটা থামছে না’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনাজপুরে অবাধে পাহাড় ও টিলা কেটে উজাড় করা হচ্ছে। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় দুই মাস ধরে ওই পরগনার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় মিরের টিলা কেটে উজাড় করছে প্রভাবশালী মহল। গত সাত বছরে নবীগঞ্জের দিনারপুরে পাহাড়ের মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের ছয়জনসহ অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এগুলো বেশির ভাগই কাটা হয়েছে আবাসিক প্রকল্প, বাণিজ্যিক মার্কেট কিংবা ঘরবাড়ি তৈরির মাটি ভরাটের জন্য। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি এবং দিনারপুরে অবাধে পাহাড় ও টিলা কাটার ওপর স্থিতিবস্থার আদেশ দেয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট উপরোক্ত রায় ঘোষণা করে। রায়ে জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে পাহাড় ও টিলা কাটা অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি পাহাড় ও টিলা কাটা রোধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত।
ইত্তেফাক/এমআই
