বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড

বৃষ্টিভেজা দিনে বাংলাদেশের দাপট

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:১৮

শেষ সেশনে এসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটটা না হারালে বলা যেত, বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ একটা দিন।

 
তা বলা না গেলেও তামিম ইকবালের ঝড়ো ব্যাটিং এবং মুমিনুল হকের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিনটাকে বাংলাদেশের বলেই মানতে হচ্ছে। সারা দিনে বৃষ্টির বাধা এড়িয়ে খেলা হয়েছে মাত্র ৪০.২ ওভার। সেই সময়টাও দুনিয়ার সবচেয়ে ঝড়ো বাতাসের শহরে বোলারদের দাপট চালাতে দেননি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। ৩ উইকেট হারিয়ে রান তুলেছেন ১৫৪।
 
এমনিতেই নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অতীত ও নিকট অতীতের ইতিহাস খুব খারাপ। তার ওপর এই ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে কোনো দলই প্রথম ইনিংসে ভালো করতে পারে না। বাংলাদেশ এখানে সব ইনিংস মিলিয়ে এর আগে দুই টেস্টে সর্বোচ্চ ১৪৩ রানের ইনিংস খেলতে পেরেছিল।
 
ফলে গতকাল টসে হেরে ব্যাটিং করতে হওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ওয়েলিংটনকেই চমকে দেন। এখানে এসে সব দল চেষ্টা করে টিকে থাকার। উল্টো তামিম ইকবাল পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন।
 
ম্যাচের তৃতীয় বলেই বাইরের বলে বাউন্ডারি মারেন তামিম ইকবাল। এক প্রান্তে ইমরুল               কায়েস অবশ্য ফেরেন বাজে এক শট খেলে। তামিমের ব্যাটিংয়ের ধরনে প্রভাব ফেলেনি তা এতটুকুও। বাঁহাতি এই ওপেনার সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন বোল্টকে। বাংলাদেশের রান যখন পঞ্চাশ পেরুলো, তামিমেরই তাতে ৪৯! সাউদিকে কাভার ড্রাইভে তিন রান নিয়ে অর্ধশতক ছুঁলেন ৪৮ বলে।
 
দুর্দান্ত ইনিংসটি শেষ হয় দারুণ এক বলে। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা বোল্টকে চার দিয়েই স্বাগত জানিয়েছিলেন তামিম। বোল্টের ১৬ বলে যেটি ছিল তার ষষ্ঠ চার। এরপরই একটু ভেতরে ঢোকা বলে লাইন মিস করে এলবিডব্লি­উ ৫০ বলে ৫৬ রান করা তামিম।
 
তামিম আউট হওয়ার পরই শুরু করলেন মুমিনুল। তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। একসময় মনে হচ্ছিল এই জুটিতেই দিন শেষ হবে। ২৯ ওভার পর তিন ঘণ্টা খেলা বন্ধ রইল বৃষ্টিতে। আবার খেলা শুরু হতেই ওয়াগনারের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হলেন ৬৪ বলে ২৬ রান করা মাহমুদউল্লাহ। ভাঙল ৮৫ রানের জুটি।
 
আবারও বিপদ হতে পারত। খানিক পর ওয়াগনারের বলেই মিড উইকেটে সাকিবের ক্যাচ ছেড়ে স্যান্টনার বাংলাদেশকে একটু স্বস্তি দিলেন। আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হলো আগেই। ৬৪ রানে অপরাজিত মুমিনুল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং গড় আপাতত ২২২।
 
এখন অপেক্ষা, আজ মুমিনুল ও বাংলাদেশ দল নিজেদের কতদূর নিয়ে যেতে পারে।

ইত্তেফাক/এএন