তীব্র শীতে কাঁপছে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দিনাজপুর-রংপুরসহ দেশের উত্তরের জনপদ। প্রচণ্ড শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দেখা দিয়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ-বালাই। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আলুসহ বিভিন্ন ফসল। দিনাজপুরে শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এই অঞ্চলে (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। অন্যদিকে গতকাল রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুর অফিস জানায়, দিনের বেলা কুয়াশার তেমন আধিক্য না থাকলেও দিনাজপুরসহ উত্তরের এই জনপদে গত দু’দিন থেকে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও কমছে না শীতের তীব্রতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন ধরে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে। তিনি জানান, গত ১১ জানুয়ারি দিনাজপুরে তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার তা নেমে আসে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শুক্রবার তা নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বিরল (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, তীব্র শীতের কারণে আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের আলু চাষি মোঃ মোস্তফা জানান, শীতের কারণে তার আলু ক্ষেতে বিভিন্ন ছত্রাক জাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। ছত্রাক নাশক বিভিন্ন ওষুধ সেপ্র করেও কাজ হচ্ছে না বলে জানালেন তিনি।
রংপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল শুক্রবার রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ রেকর্ড করা হয়েছে। এটি রংপুরে চলতি মওসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশা আর কনকনে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাঁড় কাঁপানো শীতে মানুষের পাশাপাশি কাবু হয়ে পড়েছে গবাদি পশু-পাখিও। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সন্ধ্যার পরপরই কুয়াশার চাদরে বন্দী হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল করছে নিয়ন্ত্রিত গতিতে।
