ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, রাজনৈতিক নামধারী কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুটপাত ও রাস্তা দখল মুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নগর ভবনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মেয়র বলেন, আমি জনগণের অনুভূতি ভাল করেই বুঝি। আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা বাস্তবায়ন করব। আমরা যে কোনো ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করব। জনগণের মঙ্গলের জন্য যা যা করা দরকার তা করব।
নগরীতে অবৈধ কার পার্কিং প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, হকার উচ্ছেদ শেষে আমরা ‘ইয়েস পার্কিং’ এবং ‘নো পার্কিং’ চালু করব। এরই মধ্যে ডিএমপির সঙ্গে কথা বলেছি। একটা একটা করে সমাধান করা হবে। বাস ও লেগুনার নামে নগরীতে যা হচ্ছে এটা মেনে নেওয়ার মত নয়। নগরীতে শৃঙ্খলা আসতেই হবে।
গুলিস্তান, মতিঝিল ও রমনা এলাকায় হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে মেয়র সাঈদ খোকনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। গতকাল সংগঠনের সভাপতি আবুল হাসেম কবীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মেয়রের সঙ্গে দেখা করে ১০ দফা দাবি জানায়।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে— পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না। হকারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। হকারদের ওপর দমনপীড়ন নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত হকারদের তালিকাভুক্তিসহ আইডি কার্ড দিতে হবে। দখলকৃত সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে হকারদের পুনর্বাসন করতে হবে। হকারদের ট্যাক্সেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। হকারদের পুনর্বাসনের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। জাতীয় বাজেটে হকারদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের আওতায় হকারদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
গুলিস্তানে ফের হকার উচ্ছেদ : গুলিস্তান এলাকা থেকে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মত হকার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজমুস শোয়েব। তিনি বলেন, মেয়রের নির্দেশে গুলিস্তান-মতিঝিল এলাকার ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা অভিযানের দ্বিতীয় দিন গুলিস্তান থেকে উচ্ছেদ শুরু করেছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘেরাও ঠেকাতে সড়ক বন্ধ : হকারদের আন্দোলন ঠেকাতে গতকাল সকাল থেকে নগর ভবনের সামনের রাস্তা তারকাঁটা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় পুলিশের বিপুল সংখ্যা সদস্য। ফলে সড়কটি দিয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সমর্থিত হকার্স সংগঠন বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশন ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এদিকে বাংলাদেশ হকার্স লীগের সভাপতি এম এ কাশেম বলেন, লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজরা ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলার পথ বেছে নিয়েছে। নিরীহ হকারদের তারা বিপদগামী করার চেষ্টা করছে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের উস্কানিতে সায় না দিয়ে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য হকারদের আহ্বান জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এএন
