গেল ২০১৬ সালটি অর্থনীতির জন্য নিষ্প্রভ হলেও নতুন বছর ও আগামী বছর বিশ্ব অর্থনীতি চাঙ্গা হবার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশেষ করে উদীয়মান দেশগুলো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির গতি বাড়বে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। সোমবার প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদন হালনাগাদ করে প্রকাশ করেছে আইএমএফ। এর আগে গত অক্টোবরের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হবার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবার এটি অপরিবর্তিত রাখ হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে রাশিয়ার অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হবে। ভারতে নোট বাতিলের বিরূপ প্রভাবে সাধারণের ভোগ ব্যয় কমেছে। এর প্রভাবে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায়, পর্যটন অভ্যন্তরীণ ভোগ হ্রাস পাওয়ার ফলে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ ও ২০১৮ সালে ৭ দশমকি ৭ শতাংশ হতে পারে। এর আগের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৯ ও ৭ দশমিক ৬ হবার পূর্বাভাস ছিলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবছর ১ দশমিক ৯ ও আগামী বছর ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। জাপানে এবছর শূন্য দশমিক ৮ ও আগামী বছর শূন্য দশমিক ৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। রাশিয়া গেল বছর ঋণাত্মক অবস্থান থেকে এবছর এক দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছে।
প্রতি তিন মাস পর হালনাগাদ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গেল ২০১৬ সালের মাঝামাঝি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু উন্নত দেশ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কিছু প্রণোদনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবার সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের নীতি সহায়তা বাড়ানোর ফলে প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় বাড়িয়ে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সম্ভাবনাময় বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ না হওয়ারও আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নীতি পরিবর্তন হলে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে উদ্বাস্তু ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, আফ্রিকায় জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মতো বিষয়গুলো সরাসরি দেশগুলোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়া সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কাও বিভিন্ন দেশে পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরো গতিশীল হলে তার প্রভাব অন্যান্য দেশেও পড়বে।
