ভ্যাটের হার ৭ শতাংশ করার দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ১৮:৫২
বহুল আলোচিত নতুন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইন আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন আইনে এ হার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে সাত শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ। 
 
মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া কনভেনশন হলে আয়োজিত ভ্যাট উদ্বুদ্ধকরণ সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা চায় নতুন ভ্যাট আইন আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হোক। তবে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ৭ শতাংশ করা হোক। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
 
এ সময় ভ্যাট প্রদানকালে ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, এখনো ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। ভ্যাট প্রদানের পদ্ধতি উন্নত করুন, সহজ পদ্ধতি চালু করুন। আমরা এক টাকা ভ্যাট দিতে গিয়ে তিন টাকার হয়রানি হতে চাই না। সরকার ২০১২ সালে নতুন ভ্যাট আইন সংসদে পাশ করেছে। তিন বছর পর ২০১৫ সাল থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার মুখে তা করা যায় নি। নতুন আইনে সব ধরনের পণ্য ও সেবার উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রি ধরে এর উপর এককালীন নির্দিষ্ট পরিমাণ (প্যাকেজ পদ্ধতি) ভ্যাট দিয়ে আসছিলেন তুলনামূলক ছোট ব্যবসায়ীরা। নতুন আইনে সে ব্যবস্থা থাকছে না। সঙ্কুচিত ভিত্তিমূল্য ধরে ভ্যাট দেয়ার ব্যবস্থাও থাকছে না। ফলে বর্তমানে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন পরিসেবার ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে এক লাফে ১৫ শতাংশ হবে। রডসহ নির্মাণসাগগ্রীর ভ্যাটের হারও বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। এভাবে বেশকিছু পণ্যের ভ্যাট এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে। ফলে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এর বাইরে টার্নওবার (বার্ষিক বিক্রি) ভ্যাট নিয়েও রয়েছে আপত্তি। ইস্যুটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এখন পর্যন্ত সুরাহা হয় নি। সর্বশেষ গত জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের বিরোধিতা ও ভ্যাট অনলাইনের প্রস্তুতির ঘাটতিতে তা বাস্তবায়ন করা যায় নি। তবে আগামী জুলাই থেকে যে কোন মূল্যে এটি বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এনবিআর। 
 
আলোচনায়  অংশ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন। হয়রানি রোধে চলতি সপ্তাহে এনবিআর ই-মেইল সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক এই ৩ বিভাগের ফিডব্যাক ইমেইল সার্ভিস চালু করা হবে।  যে ই-মেইলে যোগাযোগ করে যেখানে করদাতারা তাদের সমস্যা জানানোর পাশাপাশি সমাধানও পাবেন। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট  আইন বাস্তবায়ন হতে আর মাত্র ৫ মাস ১৩ দিন বাকি আছে। নতুন ভ্যাট আইন মানুষের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি সকলের জন্য  মঙ্গল নিয়ে আসবে। হয়রানি বন্ধে আমরা রাজস্ব সংলাপ করে যাচ্ছি। অন্যদিকে যারা হয়রানি করছে সেই সকল কর্মকরর্তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় ফাঁকিবাজ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনের সামনের বাগানে ফুলের পাশাপাশি বাঘের ভাস্কর্যও রয়েছে। 
 
সভায় ঢাকা উত্তরের ভ্যাট কমিশনার মাসুদ সাদিকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, সুলতান মাহমুদ, খন্দকার আমিনুর রহমান ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবুল কাসেম খান প্রমুখ। 
 
ইত্তেফাক/এমআই