নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের তৃতীয় প্রয়াণ দিবস পালন করেছেন সুচিত্রা সেনের জন্মস্থান পাবনার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।
গত মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সুচিত্রা সেনের স্মৃতি বিজরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাবনা টাউন গার্লস হাই স্কুলে স্মরণসভার আয়োজন করে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ। সভার শুরুতে সুচিত্রা সেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে
পরিষদের সভাপতি এম সাইদুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক রামদুলাল ভৌমিক, পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন, টাউন গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রবিউল করিম প্রমুখ।
এর আগে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে পাবনা প্রেসক্লাবে সুচিত্রা সেন স্মরণসভার আয়োজন করে সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র সংসদ। আলোচনা সভার শুরুতেই তাকে স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। পরে সংসদের আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন, সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক ও সাহিত্যিক আখতার জামান, সংসদের সদস্য রেজাউল করিম মনি, কবি গোলাম রব্বানী, চলচ্চিত্র নির্মাতা বাদল দেওয়ান, নাট্যকার-নির্দেশক ফিরোজ খন্দকার, নাট্যকার দোলন আজিজ প্রমুখ। সভায় বক্তার বলেন, জামায়াতের কবল থেকে উদ্ধার করে সুচিত্রা সেনের স্মৃতি বিজরিত পৈত্রিক বাড়িটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিয়েছে প্রায় ৩ বছর। অথচ বাড়িটিতে পাবনাবাসীর দাবি ‘সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা’ গড়ে তোলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। বাড়িটিতে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করতে কাল বিলম্ব করতে থাকলে পাবনাবাসী আবারো আন্দোলনে নামবে বলেও হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
একইদিন সন্ধ্যার পর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সুচিত্রা সেন অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মেঘকালো’ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও সুচিত্রা সেন স্মরণে পাবনার নাট্যসংগঠন পাবনা ড্রামা সার্কেল, একুশে বইমেলা পরিষদ, লালন স্মৃতি পরিষদ, মহিয়সী পাঠচক্রসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পালন করেছে পৃথক কর্মসূচি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের এইদিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সুচিত্রা সেন।
ইত্তেফাক/এএন
