বিশ্বে দেশের মাথা উঁচু করার প্রত্যয় অবনীর

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৩৮

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল ড্যান্স এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপ। এতে স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশের মেয়ে মুনজারিন অবনী। ফ্রিস্টাইল এবং আর্টিস্টিক ক্যাটাগরিতে বিশ্বের ২৫টি দেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি এই সম্মান অর্জন করেন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি প্রথম পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

 
অবনী এই পুরস্কার জেতা নিয়ে বলেন, বিশ্বের দরবারে আমার দেশের মাথা উঁচু করতে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমি আমার দেশের লোকসংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পেরেছি। বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগী এবং বিচারকগণ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
 
অবনী বলেন, চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে তো অনেক ভালো লাগছে। আমার নাচের শিক্ষক তাবাসসুম আহমেদ, অলিভ ইসলাম ও ইভান শাহরিয়ার সোহাগ স্যারের কথা মনে পড়ছে। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
 
আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী অবনী এক যুগের বেশি সময় ধরে নৃত্যজগতে আছেন। তার প্রথম নৃত্যশিক্ষক তাবাসসুম আহমেদ। এরপর তিনি অলিভ ইসলামের কাছ থেকে তালিম নেন। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাচ নিয়ে তিনি ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, তুরস্ক, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, চীনসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। মানিকগঞ্জের মেয়ে অবনীর মা মোর্শেদা বিনতে আসির একজন শিক্ষক এবং বাবা মাহবুবুর রহমান খান একজন ব্যবসায়ী। বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান অবনী। মেয়ের কাছে তাদের একটাই প্রত্যাশা, ‘যাই করো, লেখাপড়া ঠিক রেখো’। তাই লেখাপড়াও ঠিকভাবে করছেন অবনী।
 
গেল বছর চীনে অনুষ্ঠিত হয় ২৭তম মিস ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অবনী অংশ নিয়ে অষ্টম স্থান অধিকার করেন। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় তিনি প্রতিযোগিতার ‘মেসেন্যাট বিউটি’ নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে অবনীকে ‘শান্তিদূত’ নির্বাচিত করা হয়। ফলে জাতিসংঘের অধীনে এখন দেশ-বিদেশে বিশেষ শান্তিবার্তা বহন করতে হবে অবনীকে।
 
অবনী জানান, আমি সৌভাগ্যবতী। ৬০ প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা আটে জায়গা করে নিতে পেরেছি। হয়তো মুকুট জয় করতে পারিনি, তবে এই পুরস্কার আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে। আন্তর্জাতিক অন্যান্য প্রতিযোগিতায় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারব। অবনী নাচ দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করাতে চান। এছাড়া তিনি বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার চিন্তা করছেন।
 
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অবনী দেশে-বিদেশে অর্ধশতাধিক পুরস্কার জিতেছেন। তিনি জানান, আমি পুরস্কারের জন্য কাজ করি না। তবে পুরস্কার কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। উত্সাহ পাই ভালো কিছু করতে। ইতিমধ্যে তিনি গ্লোবাল ফিম্যাল ফোক ডান্স প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অল ইন্ডিয়া ক্লাসিক্যাল এবং ফোক ডান্স প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন। ইন্ডিয়া থিয়েটার অলিম্পিয়াডে ক্ল্যাসিক্যাল ডান্সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। সুরিন ইন্টারন্যাশনাল ফোকলোর ফেস্টিভ্যালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। সাবা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টিভ্যালে দ্বিতীয় হয়েছেন।
 
অবনী ওয়ার্ল্ড আর্টিস্টিক ডান্স ফেডারেশনের সক্রিয় সদস্য। সারা দুনিয়ার ডান্সের জগতে এই সংগঠনের সদস্য হওয়া সম্মানের বিষয়। অবনী দেশে গড়ে তুলেছেন একটি নৃত্যকলা একাডেমি। সমপ্রতি এই একাডেমির তরুণ শিল্পীরা ‘এয়ার আ্য্যরিয়েল ড্যান্স’ প্রদর্শন করেছে। দেশে প্রথমবারের মতো এই ক্লাসিক্যাল ড্যান্স কোনো শিল্পীরা প্রদর্শন করলো। অবনী প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ‘অবনিস কেয়ার’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। এখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ  দেয়া হয়।
 
বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই অবনী মূলত পরিচিত হয়ে উঠেন। দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের টেলিভিশন বিজ্ঞাপন চিত্রে কাজ করে সবার নজরে আসেন তিনি। গ্রামীণফোনের ‘প্রতি সেকেন্ডে এক পয়সা’ শিরোনামের বিজ্ঞাপনে কাজ করে তিনি পেয়েছেন ‘সাঁকো টেলিফিল্ম এ্যাওয়ার্ড’। দেশের পর্যটন শিল্প ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসে প্রান্তিক মানুষের দিনবদলের গল্প উঠে আসে এই বিজ্ঞাপন চিত্রে।

ইত্তেফাক/এএন