গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্সদেরকে আশ্বস্ত করে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এক্সেসরিজ খাতের রপ্তানির বিপরীতে নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা দাবি করেন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান।
গতকাল বৃৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে চার দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক গার্মেন্ট এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং এক্সপোজিশন (গ্যাপেক্সপো)-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ), এএসকে ট্রেড এন্ড এক্সিবিশন প্রা. লি. ও জাকারিয়া ট্রেড এন্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।
ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইপিবি থেকে এক্সেসরিজ রপ্তানির ব্যাপারে সকল তথ্য সংগ্রহ করে এবং নগদ আর্থিক প্রণোদনার ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। আশা করছি কোনো ধরনের আইনি জটিলতা না থাকলে তৈরি পোশাকখাতের মত করে তারাও এ সুবিধা পাবে। তবে ব্যবসায়ীদের এমন ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে কোনো ধরনের সুবিধা ছাড়াই তারা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার পণ্য বহুমূখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এখানে ঔষধ শিল্প ও প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এখানে এক্সেসরিজ খাতও গুরুত্ব পাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, আমরা যখন ব্যবসা শুরু করি তখন প্রথমবারই সাইজট্যাগের কারণে শিপমেন্ট পিছিয়ে যায়। যা আমদানি করতে হতো হংকং থেকে। এজন্য পাঁচদিন অপেক্ষার পর তা আনতে লোক পাঠাতে হত। এখন আর সে ধরনের অসুবিধা নেই।
বিজিএপিএমইএ সভাপতি আব্দুল কাদের খান বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণের রোডম্যাপ ঘোষণা করছে। এরই আলোকে বিজিএমইএ ২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে হবে।
এজন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা দাবি করে তিনি বলেন, অন্যান্য রপ্তানি খাতের মতো এ সেক্টরকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান, ব্যাংকের সুদের হার হ্রাসকরণ, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা প্রদান, ইউপি এবং আমদানি প্রাপ্যতা ইস্যুর ক্ষমতা এ অ্যাসোসিয়েশনকে দিতে হবে।
গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানি করে বিগত অর্থ বছরে প্রায় ৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।
বিজিএপিএমইএ’র দাবির সমর্থনে এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে এখন বিশ্বমানের পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হয়েছে। এখাতের বিকাশের জন্য তাদের হাতে ইফটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) প্রদানের ক্ষমতা দানের দাবি জানান তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে হলেও এখাতকে সব ধরনের সুবিধা দেয়া দরকার। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত এরমধ্যেই ৪৪ লাখ লোকের কর্মসংস্থান করছে। বাংলাদেশ গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক খাতকে আজকের অবস্থানে আনার পেছনে নগদ সহায়তা নিয়ামক ভূমিকা রেখেছে। তাই কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে এক্সেসরিজ খাতকেও নগদ সহায়তাসহ সব ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া উচিত।
গতকাল শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। রপ্তানি বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ এবং সমপ্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় ৬০০টি স্টল এবং ৮০০টি বুথ থাকবে। ২৪টি দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি মেলায় অংশ নিয়েছে। মেলার স্টলগুলোতে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং পণ্যের মেশিনারিজ, কাঁচামাল এবং গার্মেন্টসের এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানের উত্পাদিত পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। সকাল ১১টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রসঙ্গত, মেলার মিডিয়া পার্টনার দৈনিক ইত্তেফাক।
