জঙ্গি দমনে ব্যাপক সফলতা পেলেও এখনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি বহুল আলোচিত পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের। ইউনিট গঠন নিয়ে গত আট বছর ধরে চলছে চিঠি চালাচালি। গুলশানে হলি আর্টিজানে নৃশংস হামলার পর পরিস্থিতির প্রয়োজনে জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনবল দিয়ে গঠন করা হয় ইউনিটটি।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৩ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬। এতে প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে কল্যাণ প্যারেড। এতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার দাবি তোলা হবে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট হবে। এর নানাদিক নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। তা সত্ত্বেও আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছি। তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে একটু সময় লাগতে পারে।
জঙ্গি দমনে সফল এ ইউনিট
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, গত দু’বছর জঙ্গি তত্পরতা সারাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দেশের বিভিন্নস্থানে জঙ্গিদের হাতে জাপানি নাগরিক, পুরোহিত, হোমিও চিকিত্সক, খাদেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার তিন ডজন মানুষ খুন হন। গত বছরের পহেলা জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ও পরে শোলাকিয়ায় ঈদগাহে ব্যাপক হামলা চালায়। গুলশান ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের উদ্যোগে গঠন করা হয় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম সিটি ইউনিট। দায়িত্ব দেয়া হয় অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামকে। নানা সীমাবদ্ধতা ও সীমিত জনবল নিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ইউনিট গুড়িয়ে দেয় জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক। নিহত হয় ৩৪ জন জঙ্গি। গ্রেফতার হয় বেশ কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গি।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম সিটি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিটি ইউনিটের জন্য মঞ্জুরিকৃত জনবল ৬০৩ হলেও দায়িত্ব পালন করছেন ৩৫০ জন।
পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জঙ্গি দমনই পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে দ্রুত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। রাজারবাগে কল্যাণ প্যারেডে আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো।
আট বছর আগে প্রক্রিয়া শুরু
পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, সময়ের প্রয়োজনে জঙ্গি দমনে বিশেষ টিম গঠন করা জরুরি। সে দিক বিবেচনায় নিয়েই ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠনের জন্য পুলিশ সদর দফতর প্রক্রিয়া শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্সের আদলে এই ইউনিট গঠন করার কথা। সে মোতাবেক পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে গঠন প্রক্রিয়া, জনবলসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের (অর্গানোগ্রাম) খসড়া তৈরি করে ওই বছরের ১৫ নভেম্বর পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে দুই দফায় কিছু সংশোধনের জন্য পুলিশ সদর দফতরে ফেরত পাঠানো হয়। নির্দেশমতো সংশোধনের পর প্রস্তাবনার কপি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে কয়েক দফায় আবারও যাচাই বাছাই করা হয়। পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। এরপর পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। পুলিশ সদর দফতরে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ গঠনের ফাইলটি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েই পড়ে আছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, একই সময় প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন বা এসপিবিএন, গুরুত্বপূর্ণ মামলা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ‘এয়ারপোর্ট এপিবিএন’, পোশাক কারখানার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশের পাশপাশি টুরিস্ট, নৌ পুলিশসহ বেশ কয়েকটি ইউনিটের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
