প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশে যা করতে পারেন ট্রাম্প

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:৫৪
 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে গতকাল শুক্রবার শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই শপথ গ্রহণের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি এক মধ্যাহ্নভোজে সমর্থকদের জানান, প্রেসিডেন্ট কলমটি আমি কিছু অর্থপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। দায়িত্ব গ্রহণের ভাষণের পর আমি যেসব কাগজে সই করবো সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প বেশ কিছু নির্বাহী আদেশে সই করবেন হোয়াইট হাউসে তার মুখপাত্র সিন স্পিসারের এমন বক্তব্যের পর ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কিছু নির্বাহী আদেশে সই করবেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বেশ কিছু নীতি বদলে দেবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা তার আট বছরের শাসনামলে প্রায় ২৭৫টি লিখিত নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তার কয়েকটি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। খবর:সিএনএন।
 
ট্রাম্প প্রথমদিকে যে সকল নির্বাহী আদেশ দিতে পারেন 
 
অফিসে যোগ দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাসন সীমিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প কয়েকটি পদক্ষেপ নেবেন বলে তার উপদেষ্টারা আভাস দিয়েছেন। অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বযস্ক ছেলেমেয়েদের দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং স্কুল-কলেজে পড়ালেখার অনুমতি দিয়ে ওবামা যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন তা রদ করার নির্দেশ দেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়াদের মধ্যে থেকে সবাইকে দ্রুত বহিষ্কার করবেন না ট্রাম্প। এদের মধ্যে ৭ লাখ লোকের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেবেন তিনি।
 
ওবামা ক্ষমতায় আসার পরপরই যে তিনটি কাজ করেছিলেন তার একটি হচ্ছে গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু। নির্বাচনের পরপরই ট্রাম্প বলেছেন, আমরা গুয়ানতানামো বে কারাগার চালু রাখব। আমরা খারাপ লোকদের দিয়ে সেটি ভরে ফেলব। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে ২০০২ সালে সন্দেহভাজন বিদেশি সন্ত্রসীদের আটক রাখার জন্য কারাগারটি তৈরি করা হয়।
 
কেন্দ্রীয় সরকারের ঠিকাদারদের জন্য ওবামার কিছু নির্বাহী আদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন ট্রাম্প। এর মধ্যে আছে কেন্দ্রীয় সরকারের ঠিকাদারদের শ্রমিকদের ন্যূনতম ঘণ্টায় ১০ ডলার বেতন দেয়া বাধ্যতামূলক করা। 
 
জলবায়ু নীতি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিয়ে বহু নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন ওবামা। ২০১৫ সালে ওবামা কার্বণ নিঃসরণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। বিষযটি এখন কেন্দ্রীয় আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন ট্রাম্প। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৪০ ভাগ কমানোর জন্য ওবামা যে  নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন তা পাল্টে দিতে পারেন ট্রাম্প।