আগামী ৬ ফেব্রয়ারি থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১১টি খাল উদ্ধার অভিযানে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। একইসেঙ্গ ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানী শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে নন্দীপাড়া ত্রিমোহিনী খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। অবৈধ দখল থেকে খাল উদ্ধারের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ।
রবিবার রাজধানীর নগর ভবনের মেয়র সেলের অয়োজিত এক সভায় এ ঘোষণা দেন মেয়র। অপরদিকে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ষার আগেই ৯ কিলোমিটার স্ট্রম স্যুয়ারেজ লাইন সম্পূর্ণ পরিষ্কার করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন ওয়াসার এমডি তাকসিম খান।
সভায় ঢাকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দীন, ওয়াসার এমডি তাকসিম খান, দক্ষিণ সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম কে বখতিয়ার, প্রধান প্রকৌশলী ফরাজি শাহাবুদ্দিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা উপসচিব মোস্তফা কামাল, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা উপসচিব কামরুল ইসলাম ও প্রধান নগর পরিকল্পনবিদ সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাঈদ খোকন বলেন, খাল উদ্ধারের জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তাই করা হবে। নন্দীপাড়া ত্রিমোহিনী খাল দিয়ে শুরু হওয়া এ কর্মসূিচ চলমান থাকবে। এ খালের উপর বা আশেপাশে বা সীমানায় অবস্থিত সকল অবৈধ স্থাপনা সরানো হবে। এতে সহায়তা করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়া প্রয়োজনে অন্যান্য সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাহায্য নেয়া হবে।
মেয়র বলেন, খাল উদ্ধারে কোন বিশেষ ব্যক্তি কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা ব্যক্তিকে বিবেচনায় আনা হবে না। এছাড়া খাল উদ্ধারে বাধা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. সালাউদ্দীন বলেন, দক্ষিণ সিটি এলাকায় মোট ১১টি খাল রয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশের অবস্থাই খারাপ। কিছু খালের বর্তমানে কোন চিহ্নই নেই। কিছু খালের জমি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা সরকারী সংস্থার নামে রেকর্ড করা হয়েছে। তাই এসব খাল উদ্ধারে ডিএসসিসিকে সহায়তা করতে আমরা তৈরি আছি। উদ্ধার অভিযানে আমরা নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট নিয়োগ করবো।
সভায় ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম খান বলেন, রাজধানীতে মোট ৬২টি খাল ছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ২৬টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে দক্ষিণ সিটি এলাকায় মোট ৭টি খালের অস্তিত্ব আমরা দেখতে পাই। এর মধ্যে খিলগাঁও বাসাবো খালে অবৈধ দখল নেই। তবে ময়লা আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। মান্ডা খালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া এ খালটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, খালগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বছর বর্ষার আগেই মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্ট্রম স্যুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করা হবে। তবে হঠাৎ করে ২ শত বা ৩ শত মিলিমিটার বৃষ্টি না হলে রাজধানীতে এবছর কোন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে না বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
