‘৫১ শতাংশ তামাক পণ্যে ছবিসহ স্বাস্থ্যসর্তকবাণী অনুসরণ হয়নি’

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৫৭
৫১শতাংশ তামাকপণ্যে ছবিসহ স্বাস্থ্য সর্তকবাণী অনুসরণ করা হয়নি বলে এক গবেষণায় প্রকাশ পায়। ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার আইন ২০১৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী সকল তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উভয় পার্শ্বে মূল প্রদর্শনী তলের উপরিভাগে অনূন্য শতকরা পঞ্চাশভাগ পরিমাণ স্থান জুড়ে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারে সৃষ্ট ক্ষতিসম্পর্কিত রঙ্গিন ছবি ও লেখা সংবলিত সর্তকবাণী মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক।
 
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশকালে এ তথ্য জানান হয়। বেসরকারি উন্নয়ণ সংস্থা প্রজ্ঞা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
 
গবেষণায় দেখা গেছে, ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ তামাকপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সচিত্র সর্তকবাণী মুদ্রণ সংক্রান্ত শতভাগ কমপ্লায়েন্স অনুসরণ না করেই তামাকপণ্য বিক্রি করছে। ১৯ দশমিক ২ শতাংশ তামাকপণ্যের প্যাকেটে/কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সর্তকবাণী নেই। ৪০ দশমিক ২ শতাংশ জর্দার কৌটায় এখনও সচিত্র স্বাস্থ্য সর্তকবাণী মুদ্রণ করা হয়নি। ৯১ দশমিক ১ শতাংশ বিড়ির প্যাকেট, ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ জর্দা এবং ৪২ শতাংশ গুলের কৌটায় সর্তকবাণী সঠিক স্থানে মুদ্রণ করা হয়নি। 
 
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়েছে, গবেষণায় প্রাপ্ত ৪৪টি ব্র্যান্ডের সিগারেটের মধ্যে ৩৫টি এবং ১৭টি ব্র্যান্ডের বিড়ির মধ্যে ১২টি পূর্ববর্তী পর্বের ছবিসহ বাজরে পাওয়া যায়। 
 
তারা বলেন, বিড়ির প্যাকেটে ‘শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত’ বিবৃতির মুদ্রণের হার শূন্য। সচিত্র স্বাস্থ্য সর্তকবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক বিষয়টি সম্পর্কে ৩১ শতাংশ মানুষ জানেন না এবং ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ জানেন না এটি তিন মাস অন্তর পরিবর্তন করতে হয়। দেশের ৮টি বিভাগীয় শহর ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। তামাক বিরোধী সংগঠন সমূহের পক্ষে ৭টি প্রতিষ্ঠান এসিডি, ঢাকা আহছানিয়া মিশন. সীমান্তিক, ইপসা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল এবং প্রজ্ঞা তথ্য সংগ্রহ করে। ১৯ মার্চ ২০১৬ থেকে প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তামাক কোম্পানিগুলো আইন অনুযায়ী বিধান কতটা পালন করে তা মূল্যায়নের জন্য ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত একযোগে এই গবেষণা চলে। মোট ১হাজার ৮২৭টি তামাকপণ্যের প্যাকেট, কৌটা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
 
দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আইন অনুসরণ না করার জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। যার মধ্যে সচিত্র সর্তক বাণী মুদ্রণে বাধ্য করা, আইন লঙ্ঘনকারীদের জরিমানা করা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা উল্লেখযোগ্য।
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ শেলের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। 
 
ইত্তেফাক/এমআই